Logo

রাজনীতি

ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে জোট হচ্ছে এনসিপির

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৫, ১৭:১৪

অ
ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে জোট হচ্ছে এনসিপির

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের শাসনের পতন, পরবর্তীতে রাজনৈতিক দল গঠন করে এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছাত্র নেতৃত্ব। আর রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশের দুই মাসেই, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

যদিও রাজনীতিতে এনসিপির শীর্ষ নেতারা একেবারেই নতুন। তবে দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে থাকা কয়েকটি দলের সহযোগিতায় সাংগঠনিকভাবে অনেকটা এগিয়ে গেছে এনসিপি। গণ-অভ্যুত্থানের ভূমিকা মূল্যায়ন করে একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে, এনসিপিকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলোর মধ্যে আসছে মতভিন্নতা।    

এদিকে, জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির নির্বাচনি জোট গড়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেন নেতারা। জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতারাও বলছেন নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপির সঙ্গে তাদের জোট গড়ার সম্ভাবনা আছে। ভবিষ্যতে জোটের বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছে না এনসিপিও। যদিও ভোটের সমীকরণের আগে সংস্কার ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার।

জাতীয় নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার ও জাতীয় সনদ, গণপরিষদ নির্বাচন ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জাতীয় নাগরিক পার্টির। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতেও রাজপথে নানা কর্মসূচি পালন করছে দলটি।

একই দাবিতে ২ মে আরও একটি বৃহত্তর কর্মসূচি পালন করে এনসিপি। আপাতত এই ইস্যুগুলোতেই গুরুত্ব দিতে চায় এনসিপি। তবে নির্বাচনি সমীকরণের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জোট গড়ার বিষয়েও আভাস দিচ্ছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

অন্যদিকে, নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। বিএনপি যেমন নানা ইস্যুতে যুগপৎ আন্দোলনকারীদের পাশে রাখছে, তেমনি ইসলামী দলগুলোর মধ্যেও আছে জোটের গুঞ্জন। ঐকমত্য কমিশনের কাছে দেওয়া জামায়াতে ইসলামী, ইসলামিক আন্দোলন ও এনসিপির বিভিন্ন প্রস্তাবে মিল আছে। নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়া না করার বিষয়েও আছে ঐকমত্য। দলগুলোর জ্যেষ্ঠ নেতারা ইঙ্গিত দিচ্ছেন এনসিপির সঙ্গে তাদের নির্বাচনি জোট হতে পারে।

বাংলাদেশে ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে মতের ভিন্নতা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকলেও এখন নির্বাচন লক্ষ্য করে ‘এক বাক্সে ভোট আনার’ স্লোগান তোলা হয়েছে। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক পাঁচটি দল নির্বাচনি জোট করার তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে বড় ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অন্য দলগুলোর মধ্যে।

অন্যতম প্রধান দল বিএনপিও ইসলামী দলগুলোকে কাছে টানার চেষ্টায় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ইসলামপন্থিদের রাজনীতির মেরুকরণ কোথায় গিয়ে ঠেকবে, এই প্রশ্নে এসব দলের মধ্যেই চলছে নানা আলোচনা। তবে জোট হোক বা না হোক দলগুলোর প্রত্যেকেই এককভাবে ৩০০ আসনেই নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে।

ইসলামী দলগুলোর নেতারা বলছেন, দেশে পটপরিবর্তনের পর রাজনীতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ একটা অবস্থান তৈরির সুযোগ এসেছে। তাই তরুণ নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে এই সুযোগ কাজে লাগাতে চান তারা। সে জন্য তারা ইসলামপন্থিদের ঐক্য বা একটি জোট গঠনের তাগিদ অনুভব করছেন।

৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে এ পর্যন্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের সঙ্গে জামায়াতসহ ইসলামপন্থিদের কোনো বিষয়ে তেমন মতবিরোধ দেখা যায়নি। এখন ‘গণপরিষদ’ ও ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ নিয়ে বিতর্কে কিছুটা মতভিন্নতা সামনে আসছে।

ছাত্র-তরুণদের নতুন দল এনসিপির নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন করে আর কোনো ফ্যাসিস্ট যাতে তৈরি হতে না পারে, সে জন্য সংবিধানসহ রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। এ কাজ করতে হলে অবশ্যই জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিতে হবে। 

ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, গণহত্যাকারীদের বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন; এনসিপির এই তিনটি দাবি আমাদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আমরা মনে করি, এখনকার পরিস্থিতিতে নির্বাচনকে বিলম্বিত করবে এবং দেশকে কিছুটা অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন কিছু করবে না জামায়াত। এনসিপির গণপরিষদ, সেকেন্ড রিপাবলিক নিয়ে এনসিপির সঙ্গে কিছুটা মতপার্থক্য থাকলেও, জরুরি কিছু সংস্কার শেষ করে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানে দলটির সঙ্গে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। 

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন