নারী কমিশনের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে অবস্থান স্পষ্ট করল এনসিপি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৫, ১০:১৮
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, কমিশনের গঠনে সমাজের সকল অংশের নারীদের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়নি। কিছু প্রস্তাব দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে।
সোমবার (৬ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, নারী সংস্কার কমিশনের কিছু সুপারিশ এমন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে যা রাষ্ট্রকে ধর্ম ও সমাজের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এটি কোনোভাবেই সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অনুরূপ নয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে গঠিত হয় নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন, যা ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল তাদের প্রস্তাবনা জমা দেয়। এই কমিশনটি যদিও স্বাধীনভাবে কাজ করেছে, তবে এটি 'জাতীয় ঐকমত্য কমিশন'-এর আওতায় ছিল না। এনসিপির মতে, এই কারণে সব রাজনৈতিক দলই কমিশনের কাজ ও প্রস্তাবনার বিষয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
বিবৃতিতে এনসিপি আরও জানায়, প্রতিটি ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই রাষ্ট্রকে নীতি প্রণয়ন করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, নারী কমিশনের প্রস্তাবনার ফলে সমাজে এক ধরনের বিভাজন ও উত্তেজনার জন্ম হয়েছে।
তবে এনসিপি নারী অধিকার ও মর্যাদার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।
সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, নারীদের প্রতি অশালীন মন্তব্য, বিশেষ করে সাম্প্রতিক কিছু সমাবেশে প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্য আমরা ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করি। নারীরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে—বিশেষ করে গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে—নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এনসিপি জানায়, তারা নারীদের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের পথে নারীদের সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চায়।
এইচকে/ওএফ

