সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো লক্ষণ দেখছে না জামায়াত
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৫, ১৩:৩১
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন যে একেবারে সঠিক ও সুষ্ঠু হবে, এরকম কোনো পরিস্থিতি এখনো লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
রোববার (১৮ মে) রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় প্রারম্ভিক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তাহের বলেন, কিছু কিছু ইস্যুতে নানা সমস্যা দেখা যাচ্ছে। কিছুদিন আগে পাবনা আটঘরিয়া এলাকায় জামায়াতের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এখনো নির্বাচনের তারিখই হয়নি, কিন্তু জায়গা এলাকা দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আগামী নির্বাচনও একেবারে সঠিক ও সুস্থ হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনের প্রসেস এবং ইস্যুতে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, দেশের স্বার্থে-জাতীয় স্বার্থে সবার কল্যাণে জামায়াতে ইসলামী বিবেচনা করছে। এ কারণেই আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যেগুলো উত্তম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, সেখানে প্রয়োজনে আমরা আমাদের মতো পরিবর্তন করে ঐকমত্য পোষণ করেছি। আমরা যখনই বুঝতে পারছি, আমাদের যে সিদ্ধান্ত বা চিন্তা তার চেয়ে আরও ভালো হতে পারে দেশ ও জাতির জন্য, তখনই আমরা পরিবর্তন আনছি। কারণ একটাই, আমাদের লক্ষ্য, কিন্তু দলীয় নয়, জাতীয় অর্জন।
জামায়াতের শীর্ষ এই নেতা বলেন, গত আলোচনার পর ইতোমধ্যেই দেশে অনেকগুলো ঘটনা ঘটছে। এবং কারো কারো বিবেচনায় বিশ্লেষণ হচ্ছে এর পেছনেও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং সেই ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে নানামুখী। এসব অস্থিরতা তৈরি করার একটি প্রক্রিয়া। আমরা এ ধরনের ষড়যন্ত্রের নিন্দা জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখছি নির্বাচনের ব্যাপারে খুবই স্পষ্ট একটি তারিখ বা টাইমলাইন না থাকার কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানারকম অস্থিরতা কাজ করছে। এজন্য আমি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাতে চাই, আপনারা অনেক পরিশ্রম করছেন, সেজন্য ধন্যবাদ। আপনারা টানা আলোচনা করে যাচ্ছেন। তবে আমি মনে করি এখানে খুব বেশি সময় না নিয়ে আমাদের একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের সঞ্চালনায় বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার ও ড. ইফতেখারুজ্জামান।
এ সময় আলী রীয়াজ বলেন, জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার কাজ কেবলমাত্র কমিশনের একক দায়িত্ব নয়, এটি দেশের সব রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটি এবং অন্যান্য সামাজিক শক্তিগুলোরও দায়িত্ব।
তিনি বলেন, অনেক বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। আবার কিছু বিষয়ে দ্বিমত রয়ে গেছে। জামায়াতে ইসলামী পক্ষ থেকেও কিছু বিষয়ের পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব এসেছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে আলোচনার সুযোগ এখনো রয়েছে।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, আলোচনায় যারা প্রতিনিধিত্ব করেন, তাদের অনেক সময় দলীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে ফিরে যেতে হয়। কারণ, আলোচনার টেবিলে এমন অনেক বিষয় উঠে আসে যা তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো নয়। আমরা সেই প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়েই এগোচ্ছি।
সভায় ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের নেতৃত্বে জামায়াতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলটির সেক্রেটারি (ভারপ্রাপ্ত) এ টি এম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ও বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
- ডিআর/এটিআর

