জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ বরাদ্দ দাবি করে অনড় থাকলেও, নির্বাচন কমিশন (ইসি) শেষ পর্যন্ত সেই দাবিতে সম্পূর্ণ সম্মতি দেয়নি। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত নতুন প্রতীক তালিকায় দেখা গেছে, এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ‘শাপলা কলি’। বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা না দিলেও ধরে নেওয়া হচ্ছে, এনসিপির জন্যই এই নতুন প্রতীক সংযোজন করেছে ইসি। তবে এনসিপি ইসির এই পদক্ষেপকে কিছুটা ইতিবাচক মনে করলেও মূল ‘শাপলা’ প্রতীক চাওয়ার দাবি থেকে তারা সরে আসছে না।
নতুন প্রজ্ঞাপনে নির্বাচন কমিশন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জন্য প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করেছে। এ প্রজ্ঞাপনে শাপলা কলিসহ কিছু নতুন প্রতীক যুক্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ধারা ৯৪-এর ক্ষমতায় নির্বাচন কমিশন ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮’-এর সংশোধন কার্যকর করেছে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তালিকায় ‘শাপলা কলি’ প্রতীক ছিল না।
এনসিপির নেতারা অভিযোগ করছেন, প্রতীক সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ইসির কোনো চূড়ান্ত নীতিমালা নেই। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, ‘শাপলার কলি প্রতীক কোন ক্রাইটেরিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে, সেটা ইসিকে ব্যাখ্যা করতে হবে। আমরা আশা করি, তারা আমাদের চাওয়া মূল শাপলাও অন্তর্ভুক্ত করবেন।’
দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘প্রতীক তালিকায় শাপলা না থাকায় আমরা বরাবর সমস্যার মুখোমুখি ছিলাম। শাপলার কলি অন্তর্ভুক্ত করা ইতিবাচক হলেও আমাদের মূল দাবি হলো শাপলা প্রতীক। ইসির এ সিদ্ধান্ত দেখাচ্ছে, যে কোনো প্রতীক অন্তর্ভুক্তিতে আইনগত বাধা নেই।’
অন্যদিকে, দলের যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, ‘আমরা শাপলা কলি নয়, শাপলা প্রতীক চাই। অন্য কোনো বিকল্প বিবেচনা করছি না।’
দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ইসির নতুন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, শাপলার কলি দেওয়ার মাধ্যমে ইসি আমাদের ‘অনুজ’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা শাপলা নিয়ে আপসহীন। ইসিকে আমরা সরাসরি বলব, শাপলা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। না হলে আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করব।’
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শাপলা কলি প্রতীক অন্তর্ভুক্তির ফলে তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আবারও পরিবর্তন করা হবে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘শাপলা কলি রাখা যেতে পারে, এটি কারও দাবির উপর নির্ভরশীল নয়। শাপলা এবং শাপলা কলির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।’
এমএইচএস

