দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়ার সুস্থতা জরুরী : অধ্যাপক আব্দুল করিম
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ২১:০১
দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা জরুরী বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল করিম খান।
শনিবার বিকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনা আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন প্রকাশ করে ১২ দলীয় জোটের এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান এই সংকটকালীন সময়ে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে তাঁর সুস্থতা অত্যন্ত জরুরী। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে খালেদা জিয়ার পরিপূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি। তিনি যেন খালেদা জিয়াকে দ্রুত সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।
খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থার জন্য বিগত সরকারের নির্যাতনকে দায়ী করে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ষ নির্যাতনের ফলে খালেদা জিয়ার অবস্থা আজ চরম সংকটাপন্ন। দীর্ঘ প্রতিকূলতা ও সীমাহীন চাপের ফলে বিগত কয়েক বছর ধরে তিনি ধরনের রোগের ভূগছেন। কিন্তু কঠিন বাস্তবতার মাঝেও তিনি যে দৃঢ়তা, সাহস ও আপসহীন নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা এই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
দোয়া অনুষ্ঠানে দলটির শীর্ষ নেতারা আল্লাহর নিকট তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। পাশপাশি দেশের সব নাগরিকের প্রতি তারা আহ্বান জানান, খালেদা জিয়ার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তনে জনগনের দোয়াই একমাত্র মহৌষধ।
এর আগে দুপুরে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়াকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল করিম খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল । এসময় খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন দলটির নেতারা।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ফুসফুসে সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত রোববার রাজধানীল এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর ধরা পড়ে নিউমোনিয়া। এছাড়া পুরোনো সমস্যা কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিস তো আছেই।
এর আগে চলতি বছরের ৮ই জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫শে জানুয়ারি খালেদা জিয়া তাঁর ছেলে তারেক রহমানের বাসায় লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। যুক্তরাজ্যে উন্নত চিকিৎসা শেষে গত ৬ই মে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে ২০১৮ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি থেকে টানা দুই বছর কারাগারে থাকাকালে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। এরপর মুক্তি দিলেও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দেয়া হয়নি।
আরকেএইচ/এইচকে

