Logo

রাজনীতি

আপনারা মজলুম ছিলেন, জালিমের ভূমিকায় আসবেন না : ডা. শফিকুর রহমান

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১২

আপনারা মজলুম ছিলেন, জালিমের ভূমিকায় আসবেন না : ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এ দেশে মুক্তিকামী জনতার উত্থান দেখে কেউ কেউ ফুসফাস করছে। “তোমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা নাক গলাবো না, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তোমরা নাক গলাবে না। আমাদের বিষয়ে নাক অনেক গলিয়েছেন।”

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের ১১ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে জেলের মধ্যে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে ফ্যাসিস্টরা। আমিরে জামায়াত মতিউর রহমান নিজামীকে হত্যা করা হয়েছে। ৫ বারের এমপি মাওলানা আব্দুস সোবহানকেও জেলের ভেতরে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে। সেদিন চোখের পানি পাবনায় রেখে গিয়েছিলাম। তারা যে আকাঙ্খা নিয়ে বিদায় নিয়েছেন, আমরাও সেই কাজ করতেছি।”

তিনি বলেন, “আমরা কি চাই সেই ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক? এদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে হবে। একসঙ্গে ১৫ বছর মজলুম ছিলাম। ৫ আগস্টের পরিবর্তনের সাথে ধৈর্য ধরার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি মানুষের হয়ে চৌকিদারের ভূমিকায় থেকেছি। আপনারা মজলুম ছিলেন, জালিমের ভূমিকায় আসবেন না।”

জামায়াত আমির বলেন, “আমরা চাঁদাবাজী করিনি, মামলা বাণিজ্য করেনি, দুর্নীতি করিনি। সাড়ে ৩ কোটি কর্মীর সংগঠনকে এভাবে আল্লাহর দয়া ছাড়া কেউ ঠিক রাখতে পারে না। কেউ বলে না জামায়াতের নেতারা চাঁদাবাজ, মামলাবাজ ও সন্ত্রাসী।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের এক হাজারের বেশি সহকর্মীকে খুন করা হয়েছে। ৭০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। এক মিনিটও অফিস খুলতে পারিনি। নেতৃবৃন্দের বাড়িতে বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হয়েছে। যখন আমাদের ছেলেরা রাস্তায় নেমেছিল তখন আমরা সেজদায় ছিলাম।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা আমাদের সর্বনাশ করেছে তাদের কারও প্রতিশোধ নেব না। কাউকে মিথ্যা মামলার আসামি করা যাবে না। আমাদের ৮টি মামলায় ১ জন আসামি। আমরা অনেক সবুর করেছি।”

তিনি বলেন, “৬ তারিখের পর অনেকে চাঁদা আদায় করেছে। ওই দখলের নাম বললে গোসা করে। এটা ভালো লক্ষণ নয়। আমরা দুঃখ বোঝার চেষ্টা করছি। আমরা চাঁদা নেব না, যদি সরকার গঠন করি তাহলে চাঁদাবাজের হাত বন্ধ করে দেব। আমরা তোমাদের জন্য হালাল রুজির কাজ তুলে দেব। সম্মানের সঙ্গে চলবে, মাথা উঁচু করে চলবে।”

তিনি আরও বলেন, “সকলের জন্য সমান আইন থাকবে। গরম ভাতে বিড়াল বেজার হলে আমাদের আসে যায় না। আধিপত্যবাদের ছায়া দেশে রাখা যাবে না। আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। বস্তাপচা রাজনীতিকে লালকার্ড দেখাতে হবে।”

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণভোটে হ্যাঁ বলতে হবে। গণভোটে হ্যাঁ মানে আজাদী। হ্যাঁ ভোট পরাজিত হলে সরকার গঠন হলে কিছুই হবে না। ১০ দল মানেই বাংলাদেশ। সব দলকে আমরা সমান সম্মান হবে। আমরা সবাই এক। ইনসাফের দাঁড়িপাল্লাকে বন্ধ করা হয়েছিল। বমি হয়ে বদহজম হয়ে বের হয়ে আসছে।”

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও পাবনা-৪ আসনের এমপি পদপ্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন— সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-৫ আসনের এমপি পদপ্রার্থী প্রিন্সিপাল মাওলানা ইকবাল হোসাইন, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, পাবনা-২ আসনের এমপি পদপ্রার্থী অধ্যাপক কেএম হেসাব উদ্দিন, পাবনা-৩ আসনের জামায়াতে মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা আসগর আলী, শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা প্রমুখ।

এএস/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ডা. শফিকুর রহমান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর