ইসিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ
জাপাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা ও নিবন্ধন বাতিলের দাবি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:১৮
জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা ও নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে প্রধান নির্বাচন নির্বাচন কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। রোববার(২৫ জানুয়ারি) আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দিন খানের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন ও জনগণের ভোটাধিকারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ সহযোগী ও রাজনৈতিক বৈধতা প্রদানকারী দল হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের মৌলিক চেতনা, অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের নীতি এবং নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এটি সর্বজনবিদিত যে, ২০১৪ সালের তথাকথিত একতরফা ও বিনাভোটের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দখল ও টিকিয়ে রাখার প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছে। ২০১৮ সালের ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও ভোটাধিকার হরণকারী নির্বাচনের পর তারা তথাকথিত ‘বিরোধী দল’ সেজে সংসদে অবস্থান নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে কৃত্রিম রাজনৈতিক বৈধতা প্রদান করেছে।
স্মারলিপিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২০২৪ সালের তথাকথিত ডামি নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বহাল রাখতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে, যা জনগণের ভোটাধিকার হরণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। বিগত ১৫ বছর আওয়ামীলীগের সকল অপকর্মের সহযোগী ছিলো জাতীয় পার্টি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার উপর গণহত্যার বৈধতা ও সহযোগিতা করেছে জাতীয় পার্টি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ যে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তার দায়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু একই অপরাধীদের সহযোগী হওয়ার পরও জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেখানে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষিত এবং তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না, সেখানে একই অপরাধ ও দায়ে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টি কীভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়— এ প্রশ্ন আজ দেশের জনগণের। এটি শুধু রাজনৈতিক বৈষম্য নয়, বরং গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে চরম প্রতারণা। ছাত্র অধিকার পরিষদ ধারাবাহিক ভাবে নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবি করে আসছে, কিন্তু সরকার কোন রকম কর্ণপাত করছে না।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ ও ১১ অনুচ্ছেদে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, একই সঙ্গে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তদুপরি, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল যদি সংবিধানবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, জনগণের ভোটাধিকার হরণে সহযোগিতা করে কিংবা গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির সহায়ক হিসেবে কাজ করে, তাহলে সেই দলের নিবন্ধন বাতিল বা স্থগিত করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, যেখানে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকান্ডের দায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে না, সেখানে একই অপরাধ, একই রাজনৈতিক দায় এবং একই গণতন্ত্রবিরোধী ভূমিকার জন্য অভিযুক্ত জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া চরম বৈষম্যমূলক, আইনের শাসনবিরোধী এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
সংবিধান ও প্রচলিত নির্বাচন আইনের আলোকে জাতীয় পার্টিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা, প্রয়োজনে তাদের নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করার জন্য আমরা জোরালো ও দ্ব্যর্থহীন দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে, নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে অবিলম্বে সুস্পষ্ট, নিরপেক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে— এমন প্রত্যাশা দেশবাসীর পক্ষ থেকে ব্যক্ত করছি। অতএব, জাতীয় পার্টিকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার জন্য আমরা জোরালো দাবি জানাচ্ছি এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।
এসএসকে/

