Logo

রাজনীতি

‘আর কোনো ফ্যাসিবাদ কারো ঘাড়ে ভর করে এদেশে আসতে দেওয়া হবে না’

Icon

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৩

‘আর কোনো ফ্যাসিবাদ কারো ঘাড়ে ভর করে এদেশে আসতে দেওয়া হবে না’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা অনৈক্য নয়, বিভক্তি নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই। ২৪শে যেমন বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, ঠিক তেমনি ভাবে ২৬-এও ভোটের মাধ্যমে দেশে বিপ্লব ঘটাতে হবে। যদি কেউ রাজনৈতিক লেবাস পড়ে জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তবে তাদের হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে দেওয়া হবে। এদেশে আর ফ্যাসিবাদ কারো ঘাড়ে ভর করে আসতে দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো দলের বিজয় চাই না আমরা ১৮ কোটি মানুষের মুক্তির বিজয় চাই, জীবনের পরিবর্তন চাই। আমরা শান্তিতে নিরাপদে বাঁচতে চাই, আমরা আমাদের যুবকদের নিয়ে সামনে ঝাঁপ দিতে চাই। এই দেশকে নিয়ে আমরা এগিয়ে দিতে চাই। বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়াতে চাই।’

সোমবার (২৬ জানুয়ারি ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী স্কুল মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১০ দলীয় ঐক্য সমর্থিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা বিগত আন্দোলনে স্বামী, স্ত্রী, সস্তান, বোন ও পিতাকে হারিয়েছেন আমি তাদের হয়ে আপনার সামনে দাঁড়িয়েছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চেষ্টা করেছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর। কি অপরাধ ছিল তাদের। তাদেরকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অপরাধ একটাই অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে নির্মম আচরণ করা হয়েছে। আমরা সন্তান হারানোদের কাছে গিয়েছি। তাদের আহাজারি সহ্য করতে পারিনি। অনেকে আছেন যারা তাদের সন্তানদের এখনো কোন খোঁজ পাননি।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘পকেট থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হয়েছে, চাঁদাবাজি করা হয়েছে। সেই ফ্যাসিবাদ বাংলায় আবার ফিরে আসুক আপনারা কি তা চান। আমাদের সন্তানরা যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আন্দোলন করেছেন। তাদের প্রতি সববেদনা জানাচ্ছি।’ 

তিনি বলেন,  ‘এই জনপদে সবথেকে বেশি খুন করা হয়েছে। সোহানের মা বলেছিলেন তোমরা আমার সন্তানকে মেরেছো ঠিক আছে কিন্তু তার চোখ দুটি কেন তুলে নিলে কি অপরাধ করেছিল আমার ছোট্ট সন্তান।’

ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘৫ আগষ্টের পর ঝিনাইদহে নাকি চাঁদার রেট বেড়ে গেছে। যারা চাঁদাবাজী করেন, তাদের লজ্জা হওয়া উচিৎ। কারণ একজন মানুষ খেটে খেটে টাকা উপার্জন করেন, আর আপনারা তাতে ভাগ বসান। চাঁদাবাজদের ভিক্ষার পরামর্শ দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন চাঁদাবাজী হারাম, কিন্তু ভিক্ষা হারাম নয়।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদকে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে তাড়িয়েছি। কেউ আবার আসতে চাইলে রুখে দেব। কারণ স্ত্রী তার স্বামী, মা তার সন্তান হারিয়ে জাতির ঘাড়ে চেপে বসা জগদ্দল পাথরকে সরিয়েছে।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা নিজে সম্পদ বৃদ্ধি করব না, বরং ক্ষমতায় গেলে দেশের জনগনের সম্পদ বৃদ্ধি করব। দেশের টাকা যারা চুরি করেছে তাদের পেটের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে বের করা হবে। দেশে চিরতরে চুরি বন্ধ করা হবে।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে আমরা বেকার ভাতা দিয়ে তাদের অপমানিত করতে চাই না, শিক্ষিত যুবকদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন করে গড়ে তুলে মর্যাদার কার্ড হাতে তুলে দিতে চাই। ঝিনাইদহে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি, উন্নত যোগাযোগের জন্য রেললাইন ও জেলার নদী খনন করে বহুমুখী কাজে লাগাতে চাই। জামায়াত ক্ষমতায় আসলে উন্নয়নে কোন বৈষম্য থাকবে না। ইনসাফ কায়েক করে মানুষের পাশে সর্বক্ষণ থাকবে।’

জামায়াতের আমির ঝিনাইদহ জেলাকে সবচেয়ে বড় শহিদি দরগাহ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এই জেলায় জালিম শাসকদের হাতে সোহানের মতো করুণ যুবকরা খুন হয়েছে। হত্যার পর তার হাতের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল। আমি খুন হওয়া পরিবারগুলোর পাশে থাকতে চাই।’

নারীদের প্রতি কেউ কুদৃষ্টিতে তাকালে সেই চোখ উপড়ে ফেলা হবে হুশিয়ারি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘মা-বোনদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। ২৪শের আন্দোলনে আপনারা জীবনবাজি রেখে সারা বাংলাদেশে আপনাদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে লড়াই করেছেন। আমরা কথা দিচ্ছি, এমন বাংলাদেশ আমরা আপনাদের জন্য গড়ে তুলতে চাই আপনাদের গৃহে যাতায়াত অবস্থায় চলাচলে এবং কর্মস্থলে তিন জায়গায় আমরা সর্বোচ্চ মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো। কোনো জালিম আপনাদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে না। আর যদি কেউ করে রাষ্ট্র তার চোখ উপড়ে ফেলবে।’

সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের প্রার্থী আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-১ আসনের প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমান, ঝিনাইদহ-৩ আসনের প্রার্থী মতিয়ার রহমান ও ঝিনাইদহ ৪ আসনের প্রার্থী আবু তালিবের হাতে দাড়িপাল্লা প্রতিক তুলে দিয়ে জনগণকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান।

ঝিনাইদহ জেলা জামায়াত আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন।

এ ছাড়া সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের জামায়াত জোট প্রার্থী মাওলানা আলী আজম মো. আবু বকর। বিশাল এ সমাবেশে বক্তৃতা করেন, ঝিনাইদহ-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের আবু তালিব ও ঝিনাইদহ-১ আসনের প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমানসহ জেলা নেতৃবৃন্দ। এছাড়া দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে চুয়াডাঙ্গা জনসভা শেষে সড়কপথে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঝিনাইদহের জনসভায় আসেন জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান। এদিকে সমাবেশ শুরুর এক ঘণ্টা আগেই জনসভাস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। জেলার ৬টি উপজেলা থেকে বিভিন্ন যানবাহনে করে কর্মী-সমর্থকরা আসতে শুরু করে। উৎসবমুখর পরিবেশে কর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার-ফেষ্টুনে সজ্জিত হয়ে দলে দলে জনসভায় যোগ দেন।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, রোববার বিকাল থেকেই উজির আলী স্কুল মাঠে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মাঠের আশেপাশে রাতব্যাপী নজরদারী বাড়ানো হয়। নির্বাচনী সমাবেশ যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সে বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এম বুরহান উদ্দীন/এসএসকে

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ডা. শফিকুর রহমান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর