জনগণই ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে কে বেয়াদব কে গ্যাংস্টার : নাহিদ ইসলাম
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:০৯
ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, মির্জা আব্বাসের নির্দেশ তারেক রহমানের সম্মতিতে নাসিরুদ্দীর পাটোয়ারীর ওপর হামলার হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, মির্জা আব্বাসের নির্দেশ তারেক রহমানের সম্মতিতে নাসিরুদ্দীর পাটোয়ারীর ওপর হামলার হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ফকিরাপুল মোড়ে পারাবাত হোটেলের নিচ তলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের একটি অনুষ্ঠানে এ হামলা হয় বলে জানিয়েছেন এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহাবুব আলম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আপনারা যদি আওয়ামী লীগের কায়দায়, সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাঠ থেকে সরাতে চান, তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপনাদের পার্থক্য কী? আপনারা আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার জন্য মঞ্চে জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছেন, বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ২০১৮ সালে আপনারা মাঠে নামতে পারেননি, ২৮ অক্টোবর তিন মিনিটও দাঁড়াতে পারেননি। তখন আমরা আপনাদের সহানুভূতি জানিয়েছি। কিন্তু এখন আপনারা সমালোচনা সইতে পারছেন না। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আপনারা বেয়াদব বলছেন, কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণই ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে— কে বেয়াদব আর কে গ্যাংস্টার।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি আঘাত হয়, তাহলে পাল্টা আঘাত আসবে। একদলের প্রার্থীদের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হলে অন্যদলের প্রার্থীদের ওপরেও ডিম পড়বে। আমরা এই ধরনের কোনো পরিবেশ চাই না। তবে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন যদি নীরব ভূমিকা পালন করে, তবে আমাদের যা করণীয় আমরা তাই করব।
তিনি আরও বলেন, আজকে আমরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছি নির্বাচন কমিশনের প্রতি। আমরা দেখতে চাই এটার ব্যবস্থা তারা কি নেয়। কলেজ প্রশাসন এটার কি ব্যবস্থা নেয় এবং বিএনপি দলীয়ভাবে এটার কি ব্যবস্থা নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে একটি অনুষ্ঠানে আমার বেলা ১২টার দিকে আমন্ত্রণ ছিল আর মির্জা আব্বাসের ছিল দুপুর ২টায়। এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে একজন এসে নিজেকে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেয়। পরবর্তীতে তারা আমাদের ছাত্রনেতা কর্মীদের ওপরে আঘাত শুরু করে। আমাদের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। কিল-ঘুষি, লাঠি দিয়ে আমাদের উপর আঘাত শুরু করে এবং সবার উপর ডিম নিক্ষেপ শুরু করে।
তিনি বলেন, এটা শহীদ ওসমান হাদীর পবিত্র আসন, এই আসনে আপনি দুর্নীতি-চাঁদাবাজি কোনো জিনিসের সাথেই যুক্ত হতে পারবেন না। এখানে হাদী ভাই যেভাবে ক্যাম্পেইন করেছেন আমিও সেভাবে করছি। এজন্য আমি মসজিদে ফজর থেকে এশা পর্যন্ত মসজিদ ভিত্তিক কার্যক্রম শুরু করি এবং আজকে একটা কলেজে গিয়েছিলাম সেখানেও টিচারদের সাথে কথা হয়েছে। আমরা বলেছিলাম এই ভোট পবিত্র আমানত আপনাদের রক্ষা করতে হবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মির্জা আব্বাসের যে বাহিনী আমাদের হামলা করলো, এটা নিয়ে আমি পুরো বাংলাদেশের কাছে বিচার দিলাম। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে এই সন্ত্রাসী হামলা এবং সন্ত্রাসীরা যেভাবে বাংলাদেশের প্রত্যেক জায়গায় হামলা করে বেড়াচ্ছে এর বিচার করবেন।
বিএনপি থেকে মির্জা আব্বাসকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে পাটোয়ারী বলেন, তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে উনার দলে কি উনি সন্ত্রাসীদের পালবেন নাকি তাদেরকে বহিষ্কার করবেন। তাকে অনুরোধ করব মির্জা আব্বাসকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করার জন্য। খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করলে উনি আমাদের দোয়া দিয়েছিলেন। উনি একটি কথা বলেছিলেন, ‘তোমরা আছো, আমি তো বাংলাদেশটা হয়তো দেখে যেতে পারব না, আমি অসুস্থ, তোমরা বাংলাদেশটা ঠিক রাখিও।’ উনি আমাদেরকে এই কথাটা বলেছিলেন। আজকে যদি খালেদা জিয়া সুস্থ থাকতেন তাহলে উনিও লজ্জা পেতেন আজকে বিএনপি এবং ছাত্রদলের এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে।
এ হামলায় ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও পল্টন থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির শাহিন আহমেদ খান, দেওয়ান আব্দুল্লাহ, আয়মান ফয়েজ, মেজবাহ উদ্দিন, আদিব, আসিফ সাত্তারি, কামরুজ্জামান সোহেল, জিয়াউদ্দিন জুবেরসহ আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
এমবি

