Logo

রাজনীতি

ভোটের প্রচারে নারী নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৬

ভোটের প্রচারে নারী নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে

ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করেছে, বৃহৎ আকারে ভোট প্রচারে তাদের নারী নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি হামলা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদে আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী সমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “সব জায়গায় হামলার ধরণ একইরকম। মনে হচ্ছে, এটি একই দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় করা হচ্ছে। এভাবে চললে নারী প্রগতি থমকে যাবে, নারীরা রাজনীতিতে আসবেন না।”

কারা হামলা করছে—প্রশ্নে তিনি বলেন, “অবশ্যই বিএনপি। মাঠে তো আর কেউ নেই।”

ডা. তাহের বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “কিছু নেতা ও নেত্রী প্রকাশ্যে নারীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ ঘৃণামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। ‘অমুক সংগঠনের মেয়েরা বাসায় গেলে ধরিয়ে দিন’—এ জাতীয় বক্তব্য দিয়ে সহিংসতা উস্কে দিচ্ছেন। নারীর প্রতি সহিংসতা কোনো দলীয় ইস্যু নয়; এটি মানবাধিকার সংকট, সংবিধানের লঙ্ঘন এবং নারী উন্নয়ন নীতির সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রকাশ্য বিশ্বাসঘাতকতা।”

সংবাদ সম্মেলন থেকে নারীর ওপর হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দায়ীদের গ্রেপ্তার, ভোটের প্রচারে নারীদের বিশেষ নিরাপত্তা, ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াত।

ভিডিও চিত্র দেখানোর পর ডা. তাহের জানান, ২৫ জানুয়ারি যশোর-২ আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রচারে নারীকর্মীদের ওপর উপজেলা যুবদলের সভাপতি আরাফাত রহমান কল্লোলের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে মারধর ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। লালমনিরহাটে নারীদের হিজাব খুলে নেওয়া হয়েছে; ভিডিও ধারণ করলে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সামনে এই ঘটনা ঘটলেও তারা নীরব ছিলেন।

ডা. তাহের অভিযোগ করেন, ভোলার চরফ্যাসনে হাজেরা বেগম নামে এক নারীকে মারধর করা হয়। তাঁকে রক্ষায় এগিয়ে এলে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকেও মারধর করা হয় এবং কান থেকে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া ভোলার লালমোহন, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইলের গোপালপুরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বিএনপি অভিযোগ করলেও জামায়াতের নায়েবে আমির তা খারিজ করে বলেন, “জামায়াত ধর্ম ব্যবহার করে না। যারা জাতীয়তাবাদী তারা জাতীয়তাবাদের কথা বলবে। দেখা যাচ্ছে, তারাই এখন ধর্ম ব্যবহার করছে।”

নির্বাচন কমিশনকে বিস্তারিত জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি অভিযোগ করে ডা. তাহের বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী কমিশনের কাছে আমরা নিরপেক্ষতার আশা করেছিলাম।”

নারীর ওপর হামলার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, জামায়াতের নেতৃত্বের ৪৩ শতাংশ মহিলা, যারা এবারের নির্বাচনে সক্রিয়। তারা শান্তিপ্রিয়, বিশৃঙ্খলা ও উগ্রতাকে পছন্দ করেন না। প্রতিপক্ষ এটি বুঝে নারীদের আক্রমণ করছে।

ডা. তাহের বলেন, “যারা নারীর অধিকার ও স্বাধীনতার কথা বলেন, তারা জামায়াতের নারীদের ওপর হামলার বিষয়টি নিয়ে কথা বলছে না। সরকারও চুপ। অথচ তাদের প্রধান প্রতিশ্রুতি হচ্ছে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।”

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করে বলেন, “যদি নির্বাচন সুষ্ঠু না হয়, দেশে এবং বিদেশে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকারে পড়বে। কেউ যদি মনে করে জোর করে ক্ষমতায় যাবে, তাহলে ভয়াবহ ভুল করছে।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

বিএনপি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর