জামায়াত ক্ষমতায় এলে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে নারীরা : রিজভী
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৫৯
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের নারীরাই সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়া একাধিক নারী উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, আপনারা নারীদের পরিপূর্ণ বিকাশ চাননি। নারীরা রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিক—এটা আপনারা চান না। অথচ নারীদের দিয়েই আপনারা ভোট চাইছেন এবং তাদের কাছ থেকেই ভোট চাচ্ছেন। এখানেই আপনাদের গলদ। আপনারা যদি ক্ষমতায় আসেন, এ দেশে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে নারীরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলামের বাসায় হুমকিসূচক চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, পাহাড়ের গুহা থেকে সাধারণত দস্যু কিংবা জঙ্গিরা এ ধরনের চিঠি পাঠায়।
সারা দেশে বিরোধী মতের নারীদের লক্ষ্য করে সাইবার বুলিং করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মের নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে বোনদের অশ্লীল গালিগালাজ করা হচ্ছে। তাদের বটবাহিনী আর মববাহিনী মিলে সমাজকে এক ভয়ংকর অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
রিজভী আরও বলেন, ভোট পাওয়ার জন্য জামায়াত নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং তাদের একেকজনের মুখ থেকে একেক ধরনের কথা বেরিয়ে আসছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সর্বোচ্চ বাজে ও ইতরশ্রেণির শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে।
হুমকি দিয়ে পাঠানো চিঠির বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাঁর বাসার দারোয়ানের কাছে ওই চিঠি দিয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তবে আমি বিশ্বাস করি, চিঠি পাঠিয়ে হুমকি দিয়ে আমার মতো নারী, যারা এখানে বসে আছেন কিংবা গার্মেন্টসে কাজ করা মেয়েরা—তাদের থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, তারা যে নারীবিরোধী, তা আমি বলব না। তারা সেই নারীদের বিরোধী, যারা একটি ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারে। নারীকে তারা ব্যবহার করে ভোট চাইতে, জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১৫ মাস কারাবন্দি থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা বলেন, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি ভিন্ন আরেকটি রাজনৈতিক দলের শত্রু হয়ে গেছেন। জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তাদের কাছে কেবল তাদের দলের নারীরাই সেরা, পর্দানশীল, যোগ্য ও চরিত্রসম্পন্ন। কিন্তু ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের নারীরা তাদের কাছে চরিত্রহীন, অযোগ্য ও ইসলামবিদ্বেষী।
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাদের একটি ‘স্পেশাল ফোর্স’ বটবাহিনী রয়েছে, যারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে। তাদের প্রধান লক্ষ্য বিরোধীদলের সেই নারীরা, যারা নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলেন। তারা প্রকাশ্যে হুমকি দেয়, ইনবক্সে হুমকি পাঠায়, অনলাইনে সাইবার বুলিং করে। চরিত্রহীন, অযোগ্য ও ইসলামবিরোধী—এ ধরনের ট্যাগ দিয়ে নারীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও ভীত করে তোলার চেষ্টা করা হয়, যাতে তারা ঘরে বসে থাকতে বাধ্য হয়। নারীদের মানসিকভাবে অসহায় ও হেনস্তা করতেই এসব করা হচ্ছে।
এএস/

