দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে একটি দল বেসামাল হয়ে গেছে : গোলাম পরওয়ার
ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৩
ছবি : বাংলাদেশের খবর
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সারা দেশে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি দল বেসামাল হয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদী চরিত্রে রূপ নিয়েছে। তাই তারা বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা করছে। কোরআনের হাফেজকে ফ্যাসিবাদী কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজীর নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নারীরা যখন দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করতে মিটিং বা গণসংযোগে যাচ্ছেন, তাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শেরপুরে জামাতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারিকে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করে শহিদ করা হয়েছে। এই চরিত্র বদলাতে দাঁড়িপাল্লার সাথে সাথে হ্যাঁ'তে ভোট দিবেন।’
গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দেশের শাসনে থাকা বিগত তিনটি দল ও দলের কোনো নেতা বলতে পারবেন না তারা দুর্নীতি, অপশাসন, চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত ছিলেন। তাই মানুষ পরিবর্তন চায়।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ছয়টি ইসলামী দল, জুলাইযোদ্ধাদের দল এনসিপি এবং এলডিপিসহ ১১ দলীয় জোট ঐক্য করেছে। তাদের মধ্যে কোনো দুর্নীতি বা দলীয়করণের কোনো অভিযোগ নেই ।
তাই, আসন্ন নির্বাচনে ১১দলীয় জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলে সুশাসনের এমন একটি সমাজ গঠন করা হবে, যেখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষ সমান ইনসাফপূর্ণ অধিকারের মাধ্যমে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধভাবে বসবাস করতে পারবে।
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে যারা দেশে দোকানপাট, হাটঘাটসহ বাসস্ট্যান্ড ও টেম্পোস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করেছে, তারা এখন হুমকি দিচ্ছেন দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে কেন্দ্রে যেতে দিবে না, হিন্দু ভাইয়েরাসহ অন্য ধর্মাবলম্বীরা যেন দাঁড়িপাল্লায় ভোট না দেয়। ৫ আগস্টের পর এ দেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না, তাই কারা এসব চাঁদাবাজি ও হামলার সঙ্গে জড়িত, তা সবাই জানে। এখন তারাই বলছে শান্তির বাংলাদেশ গড়বে।’
নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসসমীর চাঁদপুর জেলা শাখার আমির ও জোটের প্রার্থী মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য এবং নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্রেটারি ও জিএস মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম, জেলা সহ-সেক্রেটারি অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ, ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইউনুস হেলাল, সেক্রেটারি মো. শাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
নূরুল ইসলাম ফরহাদ/এআরএস

