ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার : মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:০৮
‘ক্ষমতায় গেলে হিন্দু, মুসলমানসহ সব ধর্মের লোকেদের নিয়ে সৌহার্দের একটা বাংলাদেশ গড়বো। আমরা কোনো হিন্দু ভাইদের ক্ষতি হতে দেব না। আমরা কোনো নিরপরাধ আওয়ামীলীগ কর্মীকে হয়রানির শিকার হতে দেব না। তাই আমাকে হিন্দু ও আওয়ামী লীগের দালাল বলে। যে যাই বলুক, আমি বলবো ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার।’
শনিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মুন্সিপাড়া ইউনুসের মিলচাতালে, ঢোলর হাট ইউনিয়নের বড়ধাম এলাকায়, আকচা ইউনিয়নে, চিলারং ইউনিয়নের মানু বাবুর মন্দির, আখানগর ইউনিয়নের পাহাড়ভাঙ্গা হাই স্কুল মাঠে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
পথসভায় তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রতি অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা জান্নাতের লোভ দেখিয়ে ভোট চাইছে। তারা ধর্মকে পুঁজি করে তাদের স্বার্থ হাসিল করার পায়তারা করছে। ইসলাম কি তাদের একার নাকি। শুনেছি বিভিন্ন জায়গায় তারা ভোটারদের বিকাশ নম্বরসহ বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা পয়সা দিয়ে ভোট কিনতে চাইছে। জামায়াতে ইসলাম মুখে অনেক কথাই বলছে, কিন্তু বাস্তবতার সাথে তাদের সেসব কথার কোনো মিল নেই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাসূলের দেখানো পথে ন্যায় এবং ইনসাফের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করবে।’
মির্জা আলমগীর বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশের উন্নয়নে অনেকগুলি পরিকল্পনা নিয়েছেন। আমাদের কৃষকরা সব সময় অবহেলিত হয়। আমাদের যেসব কৃষকদের দশ হাজার টাকার কৃষি ঋণ রয়েছে তাদের সেসব ঋণ আমরা সুদসহ মওকুফ করব। আমাদের গ্রামীণ মা বোনেরা অনেক কষ্ট করে পরিবার পরিচালনা করে। আমাদের সেসব মা বোনদের যাদের এনজিও ঋণ রয়েছে, আমরা সেসব ঋণও মওকুফ করে দেব।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ কোন সীমা লঙ্ঘণকারীকে পছন্দ করে না। তারা তাদের সীমা অতিক্রম করে ফেলেছিল। শেখ হাসিনা বলেছিল তারা দেশ ছেড়ে পালায় না। অথচ শেখ হাসিনাই আজ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।’
এটাই তার শেষ নির্বাচন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বহুদিন থেকে আপনাদের সাথে নির্বাচন করেছি, কখনো জিতেছি কখনো হেরেছি, আপনাদের ছেড়ে যাইনি, কারো কোন কাজ করে দিয়ে একটা টাকাও নেই নি, এক কাপ চাও খাইনি, বাবার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করেছি, তাই শেষবারের মতো আমাকে সমর্থন দিয়ে পাশে থাকবেন আর ধানের শীষে ভোট দেবেন।’
নির্বাচনী পথসভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আবু সালেহ/এসএসকে/

