আলোচনায় থাকতে গণভোটে ‘না’ ক্যাম্পেইন জোরালো করবে জাপা
এম. সাইফুল ইসলাম
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৮
ভোটের মাঠে নিজ দলের পক্ষে প্রচারণার চেয়ে গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে জোরালো ক্যাম্পেইন চালিয়ে আলোচনায় থাকতে চায় জাতীয় পার্টি (জাপা)।
ভালো ফলাফলের কোনো সম্ভাবনা না থাকায় লাভ-ক্ষতির হিসাবে দলটি ‘না’ ভোটের ক্যাম্পেইনকে বেছে নিয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে নানা আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১৯৫ জন প্রার্থী নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রয়েছে দলটি। যদিও দলটির সাংগঠনিক অবস্থা এখন বেশ নাজুক অবস্থায়।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত দলটির সঙ্গে সখ্য রেখে চলা জাপা ‘ফ্যাসিস্ট’র সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় এবারের নির্বাচনে মাঠে নানা চাপে রয়েছে। তারপরও বড় ধরনের বাধাবিপত্তি ছাড়াই নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছে ডৎ এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাপা।
তাই, দীর্ঘদিনের মিত্র আওয়ামী লীগের ভোটের বাইরে থাকায় দলটির আনুকূল্যতা পেতেও জাপা বেশ কৌশলী। জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের বৃহস্পতিবারও বলেছেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।
এ ছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পাস করিয়ে ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা আরো দীর্ঘস্থায়ী করতে চায় মনে করে দলটি শেষ দিন পর্যন্ত ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
জি এম কাদের দৈনিক বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এখন পর্যন্ত আমার নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো বাধা আসেনি। তবে, দলের প্রার্থীদের উপর দিন গেলেই চাপ বাড়ছে। আগামীদিনে আরো বাড়তে পারে।
তিনি আরো বলেন, গণভোটে হ্যাঁ পাস হলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নানা ফন্দি-ফিকির করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইবে। বুঝে শুনে আমরা এটি করতে দিতে পারি না। আমরা এ নির্বাচনে শেষ সময় পর্যন্ত ‘না’ ভোটের জোরালো ক্যাম্পেইন চালাবো। জি এম কাদের ভোট করছেন রংপুর-৩ ও মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ ও ৫ আসন থেকে ভোট করছেন।
গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণায় শুরুর দিন থেকে দলের শীর্ষ এই দুই নেতা নিজ নিজ আসনে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে, অন্য দলের মতো জাপার শীর্ষ নেতারা দলের প্রার্থীদের পক্ষে কোনো প্রচারণায় নেই।
জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের পক্ষের দল এবং সংগঠনগুলোর জাপার বিরুদ্ধে তৎপরতা থাকায় হামলার আশঙ্কা থেকে দলটি কোনো নির্বাচনী প্রচারণায় নেই।
দলটির একাধিক সূত্র বলছে, এককভাবে ভোট করে জাপা খুব ভালো কিছু করতে পারবে না সেটি অনেকটাই নিশ্চিত। কারণ, ১৯৮৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে গড়া জাপা এখন ৬ খণ্ডে বিভক্ত। নির্বাচনের আগেও দলটি আরেক দফা ভাঙনের মুখে পড়ে।
এ ছাড়া পতিত আওয়ামী লীগের শেষ চার টার্মের শাসনামলের শেষদিন পর্যন্ত সহায়তাকারী জাপার সাংগঠনিক অবস্থা ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে জনপ্রিয়তা কমেছে হতাশাব্যঞ্জক হারে। যার ফলে, রংপুর বিভাগ এবং রাজশাহী বিভাগের ১৭টি আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি দলটি। খোদ দলের চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারির আসনে জয়ী হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এমন অবস্থায় নির্বাচনের ফলাফলের থেকে আলোচনায় থাকাটাই যেন জাপার জন্যে লাভজনক হয়ে হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনিপি ও জামায়াতের নেতারা মনে করছেন, জাপা এবার নির্বাচনী মাঠে তেমন কোনো ফ্যাক্টর নয়। তাদের আশঙ্কা জাপা নির্বাচনে ভালো ফলাফলে সম্ভাবনা না পেয়ে ভোট নিয়ে ইস্যু তৈরি করতে চায়। ভোট সুষ্ঠু হলেও শেষ পর্যন্ত দলটি প্রশ্ন তুলতে পারে। তাই দলটির প্রার্থীদের তারা কোনো ধরনের ঝামেলাও করতে চান না।
সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশু দৈনিক বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত প্রচারণায় কোন ধরনের সমস্যায় পড়েনি। তবে, তার আসনের বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রউফের লোকজন সামনের দিনগুলোতে ঝামেলা করবে বলে আশঙ্কা করছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। এবারের নির্বাচনে জাপার জন্যে খুব ভালো কিছু দেখছেন না তিনি।
দলটির গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি সারওয়ার হোসেন শাহিন বলছেন, আমরা এখন পর্যন্ত ভোটের মাঠে কোনো সহিংস ঘটনার শিকার হইনি। সামনে কী হয় বোঝা যাচ্ছে না। গণভোটে তারা ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এদিকে, সরকার একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখাতে জাপা নির্বাচন থেকে সরে আসুক তা চায় না। কারণ, আওয়ামী লীগ এখন সাময়িক নিষিদ্ধ হয়ে নির্বাচনের বাইরে। ফলে, নতুন করে জাপাকে নির্বাচনের বাইরে চলে গেলে ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রশ্নের মুখেও পড়তে পারে সরকার। এ বার্তা এখন বিএনপি ও জামায়াতের হাইকমান্ডের কাছেও রয়েছে।
বিকেপি/এমবি

