শেখ হাসিনাকে ছাড়াই ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত : মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০১
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি-দ্য উইক
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শেখ হাসিনা ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো স্থায়ী বাধা হতে পারেন না। তাঁকে ছাড়াই এই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত।
ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন দ্য উইক–কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, দলীয় সংস্কার এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে পানি বণ্টনের ন্যায্য সমাধান, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং বাণিজ্য বৈষম্য দূর করা জরুরি।
দ্য উইক–এর সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট এডিটর নম্রতা বিজি আহুজা সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করেন, রাজনীতিতে ভারতবিরোধী মনোভাব বাড়ছে—এ পরিস্থিতিতে কোন বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান প্রয়োজন?
জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রথমত, পানি বণ্টন সমস্যা শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, আন্তরিক সমাধান প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড অবশ্যই বন্ধ হতে হবে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তৃতীয়ত, বাণিজ্য বৈষম্যগুলো ন্যায্যভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, ক্রিকেট নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাটি ছিল দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রয়োজনীয়, যা উভয় পক্ষেই প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সার্বভৌমত্ব, আত্মসম্মান ও পারস্পরিক বিশ্বাসের বিষয়গুলো মাথায় রেখে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করা উচিত। খালেদা জিয়ার শোকের সময় ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সফরকে তিনি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা ফ্যাক্টরটি ভবিষ্যতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে—এ প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি একটি ফ্যাক্টর হলেও তা কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দিয়ে এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করে বর্তমান সংকট তৈরি করেছেন। দীর্ঘ মেয়াদে তিনি রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকবেন না। তাই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক তাঁর ঊর্ধ্বে গিয়ে এগিয়ে নেওয়া উচিত।
ছাত্রদের গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বিএনপি কেন জোট করেনি—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি জোটের চেষ্টা করেছিল। তবে এনসিপি যে সংখ্যক আসন দাবি করেছিল, তা দেওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি বলেন, বিএনপি আত্মবিশ্বাসী যে তাদের প্রার্থীরা ওই আসনগুলোতে জয়ী হতে পারবেন। তবে একেবারে নতুন প্রতীক নিয়ে এনসিপির প্রার্থীরা জিততে পারবেন কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্ব অনেক বেশি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
১৯৭১ সালের অমীমাংসিত ইস্যু থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কি পাকিস্তানের প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছে—এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে। এটিই বিএনপির অবস্থান।
জাতীয় নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে আগ্রহী। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো জোট হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি ‘না’ বলেন। তিনি জানান, সরকার গঠন করা হলে শুধু আন্দোলনের সঙ্গী দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গড়া হবে এবং সেখানে জামায়াতের থাকার কোনো সুযোগ নেই।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং তাঁর ঘোষিত ‘৩১ দফা’ সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি তরুণদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। বিএনপির ভিশনের মধ্যে রয়েছে—প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করা, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
এএস/

