Logo

রাজনীতি

নারায়ণগঞ্জ–৪ আসন

ধানের শীষ–দাঁড়িপাল্লার অনুপস্থিতিতে মাঠে ১৩ প্রার্থী, জমজমাট ভোটের লড়াই

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:৫০

ধানের শীষ–দাঁড়িপাল্লার অনুপস্থিতিতে মাঠে ১৩ প্রার্থী, জমজমাট ভোটের লড়াই

মনির হোসেন কাসেমী, আব্দুল্লাহ্ আল আমিন, মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও মোহাম্মদ আলী/ ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আসন হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ–৪ (সদর উপজেলা)। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন ১৩ জন প্রার্থী। তবে ব্যালটে নেই বিএনপির ধানের শীষ কিংবা জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত–সমর্থিত জোট এই আসনে নিজস্ব প্রতীকে প্রার্থী দেয়নি।

এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমী। আগের নির্বাচনেও তিনি এই আসনে জোটের প্রার্থী ছিলেন। তাঁর দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘খেজুরগাছ’। অন্যদিকে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে মাঠে রয়েছেন নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আব্দুল্লাহ্ আল আমিন, যার প্রতীক ‘শাপলা কলি’।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র ও ভিন্ন দলের প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন বিএনপির সাবেক তিন প্রভাবশালী নেতা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টিসহ আরও কয়েকটি দলও এই আসনে প্রার্থী দিয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটের লড়াই জমজমাট হয়ে উঠেছে।

ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব প্রার্থীই জোরালো গণসংযোগ ও প্রচার চালাচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশ এবং যাঁকে সব সময় পাশে পাওয়া যাবে—এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চান তাঁরা।

মাসদাইর এলাকার এক চা–দোকানি কামাল উদ্দিন বলেন, ভোটের হাওয়া বইছে। এখানে হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভিড়। শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন, তা নিয়েই চায়ের আড্ডায় আলোচনা চলছে।

মনির হোসেনের চিন্তা ‘দুই বিদ্রোহী’

জমিয়তে উলামায়ের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থন পেলেও ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীকের অনুপস্থিতি স্থানীয় বিএনপির ভোটার ও নেতা–কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। তিনি নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে ধানের শীষের ভোটারদের জোটের প্রতীকের পক্ষে আনতে চেষ্টা করছেন। তবে স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।

এই পরিস্থিতিতে ভোটের সমীকরণ আরও জটিল করে তুলেছেন বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা—দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ্ আলম এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। তাঁরা দুজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁদের বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন আন্দোলন–সংগ্রামে যুক্ত থাকা এবং তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে মোহাম্মদ শাহ্ আলম ও গিয়াস উদ্দিনের নিজস্ব অনুসারী রয়েছে। বিএনপির সাধারণ কর্মীদের বড় একটি অংশ জোটের প্রার্থীর তুলনায় তাঁদের প্রতিই বেশি আবেগী ও অনুগত, যা জোটের প্রার্থীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

তবে মনির হোসেন কাসেমী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রচার চলছে নিয়মিত। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপির নেতাকর্মীরাও আমার পক্ষে কাজ শুরু করেছেন। মূলধারার বাইরে গিয়ে কেউ কখনো সফল হতে পারেনি। আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’

হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ্ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জনগণের প্রার্থী হিসেবে আমি যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি, গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার নিজের কোনো চাওয়া–পাওয়া নেই। একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে জনগণ আমাকেই ভোট দেবে।’

অন্যদিকে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের স্বার্থে কাজ করে আসছেন। নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁর জন্য কাজ করছেন। তবে কর্মী–সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীদের কেউ কেউ বলেন, খেজুরগাছ জোটের প্রতীক হলেও দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের ছেড়ে দেওয়া তাঁদের জন্য কঠিন। পাশাপাশি দল মনোনীত প্রার্থী নেতা–কর্মীদের সুখে–দুঃখে কতটা পাশে থাকবেন, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

 ১১–দলীয় ঐক্যের একাধিক প্রার্থী

এই আসনে জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব প্রার্থী না দিলেও ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে দুজন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ্ আল আমিন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন, যার প্রতীক ‘রিকশা’।

এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ্ আল আমিন জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি সমমনা দলের সমর্থন পেয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানের পর মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমরা যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই ভালো সাড়া পাচ্ছি। ফলে এ আসনে ভোটের লড়াই এখন জোট ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।’

রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীও আলোচনায়

নির্বাচনী মাঠে আরেকটি মাত্রা যোগ করেছেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী। তিনি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এবং একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতিও।

পরিচিত মুখ হওয়ায় বিএনপির ভোটারদের একটি অংশ তাঁর দিকে ঝুঁকতে পারে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। বিভিন্ন স্থানে আমার কর্মী–সমর্থকদের ধমকানো হচ্ছে। তবু আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’

এএস/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

বিএনপি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর