শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার ইসলামী আন্দোলনের ৩০ দফা ইশতেহারে
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩৬
রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বত্র শরিয়াহর প্রাধান্য নিশ্চিতের অঙ্গীকার করে ৩০ দফা মৌলিক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি দলটি ১২ দফা বিশেষ কর্মসূচি, আট দফা নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারে ছয় দফা পরিকল্পনা এবং খাতভিত্তিক ২৮টি উন্নয়ন পরিকল্পনাও তুলে ধরেছে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ শিরোনামে এই ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। এ সময় দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ইশতেহারে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপরিচালনায় শরিয়াহর সর্বোচ্চ প্রয়োগ, কৃষি ও শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর করে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়।
ইশতেহারে নৈতিকতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা, সর্বজনীন কর্মসংস্থান, পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্র সংস্কার এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আর্থিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সব শ্রেণির মানুষের মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষা, রাষ্ট্র ও সমাজে বৈষম্য বিলোপ, সবার জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পরিবেশদূষণ রোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ গঠনের লক্ষ্যে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইশতেহারে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করার কথাও তুলে ধরা হয়।
এতে খুন-গুম, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা বন্ধ, জুলুম-নির্যাতনের অবসান, বাক্স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা রয়েছে। পাশাপাশি নারীদের সম-অধিকারের পাশাপাশি অগ্রাধিকার দেওয়া, শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, আমদানি-রপ্তানিতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ এবং কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রিধারী যোগ্য ওলামাদের সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে সিন্ডিকেট ভাঙা, শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার কথাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।
বিশেষ কর্মসূচির মধ্যে হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য মাসিক পাঁচ হাজার টাকা নগদ সহায়তা, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী যুবকদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন এককালীন ঋণ, স্বাস্থ্যকার্ডের মাধ্যমে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি এবং কৃষিকার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি উল্লেখযোগ্য।
এসএসকে/

