Logo

রাজনীতি

তারেক রহমানকে বাংলাদেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী বলছে ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৮

তারেক রহমানকে বাংলাদেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী বলছে ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’

নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান। ছবি : বিএনপি মিডিয়া সেল

বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। ‘অ্যান ইন্টারভিউ উইথ তারেক রহমান-লাইকলি বাংলাদেশ’স নেক্সট প্রাইম মিনিস্টার’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে ম্যাগাজিনটি তাদের বিশ্লেষণে বলছে, এই নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানই সম্ভবত বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার তুমুল ব্যস্ততার মধ্যেই তারেক রহমান ম্যাগাজিনটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পররাষ্ট্রনীতি এবং অর্থনীতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

পররাষ্ট্রনীতি : ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা সবার আগে দেশ
বিএনপি ক্ষমতায় এলে অন্য দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে তারেক রহমান খুব স্পষ্টভাবে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার দলের পররাষ্ট্রনীতির মূল কথাই হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ সবার আগে’।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা যেই দেশের সাথেই বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক করি না কেন, আমাদের নিজের দেশের স্বার্থ বা লাভ সবার আগে দেখা হবে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে অর্থনীতি নির্ভর। অর্থাৎ, যে সম্পর্কের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি লাভবান হবে, আমরা সেদিকেই হাঁটব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং দুই পক্ষের উপকারের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে। কোনো নির্দিষ্ট একটি দেশের ওপর নির্ভর না করে, সবার সাথে ভালো সম্পর্ক রাখাই আমাদের লক্ষ্য।’

অর্থনীতিতে নতুন দিনের স্বপ্ন
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তারেক রহমান পুরোনো খাতের পাশাপাশি নতুন নতুন খাতের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত তৈরি পোশাক শিল্প এবং প্রবাসীদের পাঠানো টাকার (রেমিট্যান্স) ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, বিএনপির আমলেই এই ভিত্তিগুলো মজবুত হয়েছিল।

তবে ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় তিনি বলেন, ‘শুধু পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। আমরা এখন তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেব। এর পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর (চিপ তৈরির শিল্প), হালকা প্রকৌশল, চামড়া ও পাদুকা শিল্প, ওষুধ শিল্প এবং সিরামিকের মতো খাতগুলোকে এগিয়ে নেওয়া হবে।’ তিনি ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসার (SME) উন্নতির দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’দের জন্য ভাবনা
বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী বা ‘জেন-জি’ ভোটারদের মন জয় করতে বিএনপি কী ভাবছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, তার দল সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে। তিনি তরুণদের সমস্যাগুলো বোঝেন এবং সে অনুযায়ী সমাধান খুঁজছেন।

তিনি বলেন, ‘তরুণরা এখন কর্মসংস্থান বা চাকরি চায়। আমরা তাদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করব। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা, আইটি দক্ষতা এবং মেধাভিত্তিক চাকরির বাজারের ওপর আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। আমার বিশ্বাস, আমাদের এই আধুনিক পরিকল্পনাগুলো তরুণ প্রজন্মের কাছে পছন্দ হবে।’

দুর্নীতি রোধ ও ব্যাংকিং খাত সংস্কার
দেশের আর্থিক খাতের অনিয়ম, বিশেষ করে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ এবং বিদেশে টাকা পাচার হওয়া নিয়ে তিনি কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘টাকা পাচার রোধ এবং খেলাপি ঋণের সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হলো সুশাসন। আমরা আর্থিক খাতে কড়া নিয়ম ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনব, যাতে কেউ চাইলেই অনিয়ম করতে না পারে।’

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ যে ঝুঁকির মুখে আছে, তা মোকাবিলায় তার সরকারের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে সাহায্য আনা এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে তার সরকারের লক্ষ্য।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টিতে তারেক রহমান
‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ উল্লেখ করেছে যে, শুধু তারা নয়, ব্লুমবার্গ, টাইম ম্যাগাজিন এবং দি ইকোনমিস্ট-এর মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও তারেক রহমানকে এবারের নির্বাচনের ‘ফ্রন্ট রানার’ বা জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে দেখছে। দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে থাকার পর গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে নিজের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

তারেক রহমান বিএনপি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর