জামায়াত আমির
যুবসমাজ রক্ত দিয়ে মুক্তি এনেছে, তারা বেকার ভাতা ভিক্ষা চায় না
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:১০
নওগাঁ শহরের ঐতিহাসিক এ. টি. এম. মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি : বাংলাদেশের খবর
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘যে যুবসমাজ রাজপথে লড়াই করে রক্ত দিয়ে মানুষের মুক্তি এনেছে, তারা কারও কাছে বেকার ভাতা ভিক্ষা চায় না। তারা চায় কাজ করার সুযোগ এবং আত্মসম্মান।’
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নওগাঁ শহরের ঐতিহাসিক এ. টি. এম. মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়বে। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে ঘুষ, দুর্নীতি ও নারী নির্যাতনের কোনো স্থান থাকবে না। ইনসাফ কায়েমের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’
যুবসমাজের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে যুবসমাজ রাজপথে লড়াই করে রক্ত দিয়ে মানুষের মুক্তি এনেছে, তারা কারও কাছে বেকার ভাতা ভিক্ষা চায় না। তারা চায় কাজ করার সুযোগ এবং আত্মসম্মান। তারা বেকার ভাতার কথা বলে তরুণদের বিভ্রান্ত করছে। কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় এলে আধুনিক কারিগরি শিক্ষা ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দেশ গড়ার দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি প্রতিটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তরের অঙ্গীকার করেন।
জনসভায় নওগাঁর ৬টি সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন ডা. শফিকুর রহমান। প্রার্থীরা হলেন- নওগাঁ-১ আসনের অধ্যাপক মাহবুবুল হক, নওগাঁ-২ আসনের এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের মাওলানা মাহফুজুর রহমান, নওগাঁ-৪ আসনের খন্দকার মুহাম্মদ আব্দুর রাকিব, নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের অ্যাডভোকেট আ. স. ম. সায়েম এবং নওগাঁ-৬ আসনের মো. খবিরুল ইসলাম।
এর আগে সকাল থেকেই জেলার ১১টি উপজেলা থেকে বাস, ট্রাক ও বিভিন্ন যানবাহনে করে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। দুপুরের আগেই ঐতিহাসিক এ. টি. এম. মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভার প্রভাবে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
দীর্ঘ সময় পর জামায়াতের এ বিশাল শোডাউনকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে জেলা পুলিশ। বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগকে ব্যাপক হিমশিম খেতে হয়।
জনসভায় জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং আগামী নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
এম এ রাজ্জাক/এমবি

