Logo

রাজনীতি

'রাজনৈতিক স্বার্থে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না'

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০২

'রাজনৈতিক স্বার্থে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না'

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনে সক্ষম হলে কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কাজ বিএনপি অতীতেও করেনি, বর্তমানেও করে না এবং ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতেও করবে না।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য এবং পিলখানায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সব সময় বাংলাদেশের পক্ষের দল। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে বিএনপি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। তাঁর ভাষায়, রাজনীতির মাঠে বিএনপি শক্তিশালী থাকলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও শক্তিশালী থাকে এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা, বিডিআর শহীদ পরিবারের সদস্য ও সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, বরাবরই সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীকে তিনি তাঁদের বৃহত্তর পরিবার হিসেবে মনে করেন। শৈশবে পিতাকে হারালেও বড় হয়ে দেখেছেন, তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর নির্ভরতা ও সম্মান ছিল। তিনি সব সময় বিশ্বাস করতেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী অপরিহার্য।

তারেক রহমান বলেন, একজন সন্তান হিসেবে তিনি যেমন তাঁর পিতাকে নিয়ে গর্ববোধ করেন, তেমনি একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শহীদ জিয়া সেনাবাহিনীকে গর্বিত করেছিলেন। তাঁর বিশ্বাস, স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক জনগণের মতো বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীও শহীদ জিয়াকে নিয়ে গর্ব করে।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ সেনাবাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের নির্ভরযোগ্য প্রহরী হিসেবে দেখে। সেনাবাহিনীকে ভিন্ন কাজে যুক্ত করা হলে তাদের মূল দায়িত্ব ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও গৌরব নিয়ে যদি সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যরা নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করেন, তবে অনেক উত্তর পাওয়া যাবে।

তারেক রহমান বলেন, দেশ যখন ফ্যাসিবাদ ও তাবেদার অপশক্তির কবলে পড়ে, তখন শুধু গণতন্ত্র ও মানুষের স্বাধীনতাই নয়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে পড়ে।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর হত্যাযজ্ঞের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই নির্মম ঘটনার পরও দিনটিকে সেনাবাহিনী যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে পালন করতে পারেনি বা পালন করতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেওয়ার চেয়ে গৌরব অর্জন ও তা ধারণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেনাবাহিনীর গৌরব সেনাবাহিনীকেই রক্ষা করতে হবে।

তিনি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের নিজেদের সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বলেন, সেনাবাহিনী রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে, তবে রাজনীতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া কখনোই উচিত নয়।

মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান আরও বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর পতিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদী অপশক্তি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে দেয় এবং তাদের ইউনিফর্মও বদলে ফেলে। তিনি বলেন, জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করতে চান।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানা সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবসকে ‘শহীদ সেনা দিবস’, ‘সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস’ অথবা জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিবস হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত বিভিন্ন সুপারিশের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের কিছু বিধিমালা সংস্কারসহ প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে এসব সুপারিশ পর্যালোচনা এবং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পে’ নীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ইতিমধ্যে দলীয় ইশতেহারে এই নীতি অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে যত দ্রুত সম্ভব এই নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।


এএস/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

তারেক রহমান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর