রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে কোনো আপস নয় : ফখরুল
ভ্যানে চেপে জনতার দুয়ারে মির্জা ফখরুল
জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৭
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
কখনো সাধারণ রিকশা, কখনোবা এবড়োখেবড়ো রাস্তায় গ্রামীণ ভ্যানে সওয়ারি হয়ে, আধুনিক যানের বিলাসিতা ছেড়ে ‘মাটির মানুষ’ হয়ে নির্বাচনী ময়দানে অবতীর্ণ হলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জগন্নাথপুর ও বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের গ্রামগঞ্জে এভাবেই নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন তিনি।
দুপুরে গলিমবাবুর হাট এলাকায় এক পথসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে কোনো আপস নয়।’ আসন্ন ‘হ্যাঁ-না’ ভোটকে সংস্কারের মাপকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘দেশটা কিছু খারাপ লোক নষ্ট করে ফেলেছে। এখন রাষ্ট্র মেরামতের পালা। আপনারা সংস্কার চাইলে ‘হ্যাঁ’ বাক্সে সিল দিন।’’ তিনি দাবি করেন, গণভোটই প্রমাণ করবে দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় কি না।
দল ক্ষমতায় এলে ৫০ লাখ মায়ের জন্য বিশেষ ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা এবং আগামী দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষকদের জন্য আলাদা কার্ড হবে, যার মাধ্যমে সস্তায় সার, বীজ ও সেচের জল নিশ্চিত করা হবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ এবং মায়েদের এনজিও ঋণের বোঝা সম্পূর্ণ মওকুফের আশ্বাস দেন তিনি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে সংহতির বার্তা দিয়ে বলেন, ‘এই দেশে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। আপনারা নিজেদের অধিকার নিয়ে রুখে দাঁড়ান, বিএনপি অতীতেও আপনাদের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।’

উল্লেখ্য, প্রচারের শুরু থেকেই মির্জা ফখরুলের সাদামাটা যাপন নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের। এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছিল ঠাকুরগাঁও। বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর করিমকে সঙ্গী করে একটি সাধারণ রিকশায় চেপে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। শীতের সকালে সেই রিকশা যাত্রার পিছনে পায়ে হেঁটে গমন করেছিলেন কয়েকশো কর্মী-সমর্থক।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভিআইপি সংস্কৃতির বাইরে এসে সাধারণ রিকশা বা ভ্যান ব্যবহার করে ফখরুল মূলত আমজনতার সঙ্গে একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করছেন। আজ রোববার জগন্নাথপুর থেকে ২৯ মাইল পর্যন্ত তার এই ‘ভ্যান যাত্রা’ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে।
আবু সালেহ/এইচকে

