তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা ঘিরে আলোচনায় যারা
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:০৪
ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর মন্ত্রিসভায় কারা জায়গা পেতে যাচ্ছেন, তা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভা হবে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গঠিত। আকারে ছোট হলেও কার্যকর একটি টিম গঠনের চিন্তা রয়েছে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, প্রশাসনিক দক্ষতা ও আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকা—এই তিন মানদণ্ডকে প্রাধান্য দিয়ে মন্ত্রী নির্বাচন করতে চান তারেক রহমান, যিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। তবে তাঁকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। একই ধরনের আলোচনা চলছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে নিয়েও।
স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মধ্যে দু–একজন বাদে প্রায় সবাই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে মন্ত্রী করা হতে পারে। জোটের নেতাদের মধ্যে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরের নামও আলোচনায় রয়েছে। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী ববি হাজ্জাজ ও ড. রেজা কিবরিয়ার নামও শোনা যাচ্ছে।
দলের অন্য নেতাদের মধ্যে আবদুল আউয়াল মিন্টু, শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, জয়নাল আবেদীন, মনিরুল হক চৌধুরী, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মো. ফজলুর রহমান, আসাদুল হাবিব দুলু, জহির উদ্দিন স্বপন, আরিফুল হক চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, তাহসিনা রুশদির লুনা, আফরোজা খানম রিতা, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আবদুস সালাম আজাদ, মো. শরিফুল আলম, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, কায়সার কামাল, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, দীপেন দেওয়ান, শামা ওবায়েদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, মিয়া নুরুদ্দিন অপু, রকিবুল ইসলাম বকুল, আবদুস সালাম পিন্টু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, মো. আসাদুজ্জামান, শেখ ফরিদ আহমেদ, ফারজানা শারমীন, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মীর হেলাল, শেখ ফরিদুল আলম, নুরুল ইসলাম নয়ন, এস এম জাহাঙ্গীর ও ইলেন ভুট্টোর নামও মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবির, আমিনুল হক ও তানভীর আহমেদ রবীনের নামও শোনা যাচ্ছে। কুষ্টিয়ার একমাত্র বিএনপি এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা এবং সাবেক বিএনপি নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে চৌধুরী নায়াব ইউসুফের নামও আলোচনায় রয়েছে।
কে কোন মন্ত্রীসভায়
প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তারেক রহমানের হাতেই থাকতে পারে। মির্জা ফখরুল পর্যটন, খন্দকার মোশাররফ বিদ্যুৎ এবং ড. মঈন খান তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।
এ ছাড়া মির্জা আব্বাস গণপূর্ত, হাফিজ উদ্দিন পাট, আবদুল আউয়াল মিন্টু সমাজকল্যাণ, আমীর খসরু বাণিজ্য, সালাহউদ্দিন জনপ্রশাসন, আবদুস সালাম পিন্টু শিল্প, রেজা কিবরিয়া অর্থ এবং হুমায়ুন কবির (টেকনোক্রেট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী তথ্য অথবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, আলতাফ হোসেন চৌধুরী স্বরাষ্ট্র এবং মাহবুব উদ্দিন খোকন বা আসাদুজ্জামানের নাম আইন মন্ত্রণালয় ঘিরে শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে গয়েশ্বর সড়ক, ইকবাল হোসেন কৃষি, আমান ডাক, নওশাদ খাদ্য, এহসানুল শিক্ষা, শামা ওবায়েদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, ডা. জাহিদ বা ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন স্বাস্থ্য, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার স্থানীয় সরকার, নিতাই রায় যুব ও ক্রীড়া এবং সানজিদা ইসলাম তুলি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কায়কোবাদ, পানিসম্পদে লুৎফুজ্জামান বাবর, প্রবাসীকল্যাণে এ্যানী, মৎস্যে জয়নুল, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়কে ফজলুর, নৌ পরিবহনে নুরু, রেলপথে পার্থ, ভূমিতে সাকি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় হাবিবুর, পরিকল্পনায় ববি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মাহদি আমিন, পরিবেশে আজিজুল বারি হেলাল, সংস্কৃতিতে শিমুল বিশ্বাস এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ে আলালের দায়িত্ব পাওয়ার গুঞ্জন রয়েছে।
এএস/

