Logo

রাজনীতি

সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে অবজ্ঞা করেছে বিএনপি : জামায়াত আমির

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫২

সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে অবজ্ঞা করেছে বিএনপি : জামায়াত আমির

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে সরকারি দল (বিএনপি) জুলাই–আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানকে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করেন, সরকারি দলের এই অবস্থান জন-আকাঙ্ক্ষা ও সংস্কার প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন বিএনপির নবনির্বাচিত সদস্যরা। তবে তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি।

সরকারি দলের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত আমির বলেন, ‘আজ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথের দিন ছিল। যদিও গতকাল গভীর রাতে আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল, যা কিছুটা অস্বস্তিদায়ক। তবুও নাগরিক দায়িত্ব ও দেশবাসীর প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা শপথ নিতে এসেছি। আমরা লক্ষ্য করেছি, অতীতে সব দলের শপথ সাধারণত একই সময়ে হতো, কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম দেখা গেল। সরকারি দল আমাদের আগেই শপথ নিয়েছে।’

ডা. শফিকুর রহমান জানান, সংসদ সচিবালয় থেকে জামায়াতসহ ১১টি দলকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তাতে দুটি শপথের কথা উল্লেখ ছিল প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং পরে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন হলে প্রবেশ করি, সংসদ সচিব জানালেন যে সরকারি দলের সদস্যরা কেবল এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আমাদের জিজ্ঞেস করলেন আমরা কী করব। আমরা স্পষ্ট জানিয়েছি, আমরা দুটিরই শপথ নিতে এসেছি।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের কারণেই এই নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। তাই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা এবং গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানোকে আমরা পবিত্র দায়িত্ব মনে করেছি। সরকারি দল শপথ না নিয়ে জুলাইকে অসম্মান করেছে। জুলাইকে স্বীকৃতি না দিয়ে ২০২৬-এর এই সংসদ কোনো গৌরবের আসনে বসতে পারবে বলে আমরা মনে করি না।’

বিএনপির পক্ষ থেকে ‘সংসদ বসার পর বিষয়টি দেখার’ যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সে প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বিষয়টি দ্রুত দেখতে চাই। যিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, তিনিও নির্বাচনী প্রচারণায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আমরা আশা করি, তাঁরা জুলাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওই শপথও নেবেন। কার কাছে নেবেন, সেটা বড় কথা নয়, কিন্তু আমরা চাই জুলাই স্বীকৃত হোক।’

এ সময় তিনি সরকারি প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়ার বিষয়ে দলের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, সরকার দেশ ও জনগণের পক্ষে কাজ করলে জামায়াতসহ ১১ দলের সমর্থন থাকবে। তবে জনস্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ দেখা গেলে জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

খলিলুর রহমানকে মন্ত্রী করা নিয়ে প্রশ্ন

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জামায়াত আমির বলেন, ‘এটা সরকারি দলের পছন্দ। তবে আমরা এটাকে ‘ফেয়ার’ বা ন্যায়সংগত মনে করি না। যাঁরা নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ ছিলেন, তাঁরা আবার দলীয় সরকারের অংশ হলে তাঁদের অতীত নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।’

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ

একই বিষয়ে কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও নবনির্বাচিত এমপি নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সরকারি দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে। সরকার গঠনের প্রথম দিনেই এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ দেশ ও জাতির মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ নয়, বরং একটি আইনি ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।’

এ সময় জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএন/ 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

জুলাই সনদ জামায়াত আমির বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জুলাই অভ্যুত্থান বিএনপি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর