ঈদ শুভেচ্ছার আড়ালে নির্বাচনী তৎপরতা
স্থানীয় সরকার ভোট ঘিরে মাঠে বিএনপি–জামায়াত–এনসিপি তৃণমূল
এম ইসলাম
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬, ২১:৪৩
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উৎসবের আবহের আড়ালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের রাজনীতিবিদরা।
ইতিমধ্যে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির তৃণমূল নেতারা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কে কেন্দ্র করে নানামুখী কার্যক্রম শুরু করেছেন।
তাদের অনেকেই পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরি করেছেন নিজ নামে। ঈদের দিন থেকে শুরু করে পুরো সপ্তাহব্যাপী তারা এলাকাভিত্তিক কর্মসূচিও হাতে নিয়েছেন।
এসব দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদও দেওয়া হয়েছে।
নেতারা বলছেন, সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ঈদের পরপরই মাঠে সক্রিয় থাকার কৌশল নিয়েছেন দলগুলোর তৃণমূল। এলাকায় ঈদ ব্যানার, ফেস্টুন ছাড়াও ছোট ছোট সমাবেশ ও জনসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে চায় সরকার।”
এ বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতারা ধরে নিচ্ছেন, ঈদের পরপরই উপজেলা নির্বাচন শুরু হতে পারে। ফলে তারা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছেন।
নেতাদের ধারণা, ধাপে ধাপে উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেই লক্ষ্যেই এখন থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গোছানো, জনসংযোগ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের পরিচিতি বাড়ানোর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তবে জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে কিছুটা অসন্তোষের কথাও জানা গেছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যেই সর্বত্র প্রশাসক বসাচ্ছে সরকারি দল, যা নির্বাচনে তাদের পক্ষে প্রভাব ফেলতে পারে।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক বলেন, “ঈদের সময় জনসংযোগ বাড়ানো রাজনৈতিকভাবে স্বাভাবিক বিষয়। আমাদের নেতাকর্মীরা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন। দল থেকে এখনো বিশেষ কোনো নির্দেশনা পাওয়া না গেলেও প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন।”
ইতিমধ্যে জামায়াত ও এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে তৃণমূলে বার্তাও দিয়েছে, যার প্রমাণ মেলে জেলা পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যে। প্রাথমিকভাবে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী নির্বাচন করেছে জামায়াত।
যশোর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও নির্বাচনী পরিচালক গোলাম কুদ্দুস জানান, “দলীয় নেতারা ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। ঈদকে কেন্দ্র করে জনসংযোগ বাড়ানোর বড় সুযোগ তৈরি হয়। আমরা সেটিকে কাজে লাগাচ্ছি।”
বসে নেই জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপিও। নতুন এই দলটি এবার সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ২৯টি আসনে অংশগ্রহণ করে ছয়টি আসনে জয় লাভ করেছে। এখন দলটির শীর্ষ নেতারা তৃণমূলে নির্বাচন নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, “দলের পক্ষ থেকে স্থানীয় নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে টিম গঠন করা হয়েছে, তারা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।”
সার্বিকভাবে বলা যায়, ঈদের আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে গেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি।

