পুশইন-সীমান্ত হত্যা
সীমান্তে সমাবেশ ও ঢাকায় বিক্ষোভ করবে ১১ দলীয় ঐক্য
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১৯:৫৫
# স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীদের মতো: জামায়াত
বাংলাদেশে পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে আগামীকাল ১২ জুন দেশের সীমান্তবর্তী সব জেলাসহ সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এ ছাড়া ১৫ জুন রাজধানীর শাহবাগের শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে এই বিরোধী জোট।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্ত ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি ঘোষণা করেন ১১–দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
সীমান্ত হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীদের বক্তব্যের মতোই শোনাচ্ছে। সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ভিনদেশের স্বার্থ চরিতার্থ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশের সীমান্ত আজ অরক্ষিত। সীমান্তে হত্যা দীর্ঘদিনের চলমান পরিস্থিতি। তবে বর্তমান সরকারের আমলে সীমান্তে হত্যার যে চিত্র দেখা যায়, সেটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার ইতিমধ্যে ২৬ জেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র প্রতিবেশীমূলক আচরণ না করে বাংলাদেশের সঙ্গে বাড়াবাড়ি করে যাচ্ছে। তারা বলে ভারতের ডিকশনারিতে পুশ ইন বলে কিছু নেই। তবে তারা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে জোরপূর্বক অনেক লোক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিজিবির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণ প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে না তুললে ভারত এত দিনে তাদের দেশের অনেক নাগরিককে এ দেশে পুশ ইন করত। ইতিমধ্যে কিছু কিছু জায়গায় পুশ ইন হয়েছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গত তিন মাসে ৫০-এর অধিক সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশ ইনের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ২ হাজার ৪৭৯ জনকে পুশ ইন করার চেষ্টা হয়েছে। তবে বাস্তব সংখ্যা এর দ্বিগুণের বেশি বলে দাবি করেন তিনি।
সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রমের সমালোচনা করে হামিদুর রহমান বলেন, ‘এই সরকারের ১০০ দিনের দেশ পরিচালনায় জনগণের অধিকার, নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। সরকার এখন অতীতের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে। এই সরকার যে আসলে কোনো সংস্কার চায় না, তা ধাপে ধাপে প্রমাণিত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জাতির সংস্কারের যে প্রত্যাশা ছিল, তা সম্পূর্ণ বিনষ্ট করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপির কেউ কেউ জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ হতে দেয়নি। বিএনপি জনগণের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কারের শপথ লঙ্ঘন করেছে, অথচ বিরোধী দল হিসেবে আমরা দুটি শপথই রক্ষা করেছিলাম।’
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সীমান্ত সংক্রান্ত বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘সীমান্তের শূন্যরেখায় পুশইনের শিকার মানুষেরা বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। সেখানে সরকারের ভূমিকা একেবারেই অপ্রতুল।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই নতজানু ভূমিকা থেকে সরে এসে দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ একই সঙ্গে তিনি ড. জাহেদের বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন। পুশইন মোকাবিলায় সরকারকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন এনসিপি-র এই নেতা।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্তে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই পরিস্থিতি ও সীমান্ত আগ্রাসনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ জুন দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবাদ সভা করবে ১১ দলীয় জোট। এরপর ১৫ জুন একযোগে চট্টগ্রামে সমাবেশ এবং রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে এই জোট। সংসদে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রাজপথেও তাদের তৃতীয় ধাপের এই আন্দোলন চলমান থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যৈষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মহাসচিব ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক প্রমুখ।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

