Logo

রাজনীতি

ইসিতে দলীয় লোকের নিয়োগ বাতিল চায় জামায়াত

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৭:০০

ইসিতে দলীয় লোকের নিয়োগ বাতিল চায় জামায়াত

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে শামসুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে জামায়াত ইসলামী। 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর মগবাজারে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার।

রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হলে কমিশনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হবে এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হবে। 

এ ছাড়া রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেছেন পরওয়ার। 

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে জাতির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সহস্রাধিক শহীদের আত্মত্যাগ ও হাজারো আহতের রক্তের বিনিময়ে যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করা হয়েছিল, দেশ কি সেই পথে এগোচ্ছে, নাকি আবারও পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে যাচ্ছে।

পারওয়ার অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

তিনি দাবি করেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার নবম দফায় সাংবিধানিক, সংবিধিবদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের পরিবর্তে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, এনজিওবিষয়ক ব্যুরোসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে তিনি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে শামসুল আলমের নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার দাবি, অবসরের পর শামসুল আলম বিএনপির একটি সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে এমন একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করবে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ওই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেন, তা না হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের বিষয়েও রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।

জামায়াতের সেক্রটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচনের পর জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসক ও কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের ঘোষিত অঙ্গীকারের পরিপন্থী।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন