Logo

রাজনীতি

জামায়াত আমির

ক্রীড়া-সংস্কৃতিতে সংবর্ধনা দিলেও হাফেজদের জন্য উদ্যোগ নেই

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৫

ক্রীড়া-সংস্কৃতিতে সংবর্ধনা দিলেও হাফেজদের জন্য উদ্যোগ নেই

# মক্কায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে সংবর্ধনা

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করা কোরআনের হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হলেও বিশ্ব কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের সাফল্যের পর এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন ডেমরার আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নূর উদ্দিন জাকারিয়া। অন্য তিন বিজয়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। তারা হলেন- তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফজ মাদ্রাসার রাবিতা বিনতে রমজান, মারকাজুল মদিনার মাহমুদুল হাসান আশরাফী এবং রাজধানীর ওয়ারীর সাওদা বিনতে যামআহ আন্তর্জাতিক বালিকা হিফজ মাদ্রাসার মুসফিরা বিনতে মাহমুদ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ বছর মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া চার প্রতিযোগীর সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে- একজন প্রথম এবং তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। বিশ্বমঞ্চে তাদের এ সাফল্য বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরেন, ক্রীড়া, সংস্কৃতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদেরকে সংবর্ধনা দিই, সম্মানিত করি। কিন্তু এ পর্যন্ত কোরআনের হাফেজরা এই যে বারবার বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করছেন বাংলাদেশের মুখ, এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সে রকম কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’

কওমি ও হিফজ শিক্ষার সঙ্গে যুক্তদের প্রতি সরকারের কোনো প্রতিশ্রুতি নেই বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘যারা কওমি সিস্টেমের এই শিক্ষাটাকে ধরে রেখেছেন, যারা হিফজের এই শিক্ষাটাকে ধরে রেখেছেন, তাদের প্রতি সরকারের কোনো কমিটমেন্ট নেই, কোনো ডেলিভারি নেই। এটা একটা সাফসফা বৈষম্য।’

তিনি জানান, এ বছর মক্কায় বিশ্ব তাহফিজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে চারজন প্রতিযোগী অংশ নেন এবং চারজনই বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রথম এবং বাকি তিনজন তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসার পাশাপাশি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষা গ্রহণ করছে। এ সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হাফেজদের এ অর্জন যেন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় গৌরব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে একটি গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ইনশাআল্লাহ, সেই বাংলাদেশ হবে মানবিক বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দৃষ্টান্ত।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মেইন ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, বিরোধী দলের লংমার্চ ‘প্রিম্যাচিউর’ সময়ে হচ্ছে—সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর যে সমাজ প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা দেখা যাচ্ছে না। জনগণের পক্ষ হয়ে নৈতিক দায়িত্ব পালনের জায়গা থেকেই তাদের এই কর্মসূচি।

‘প্রিম্যাচিউরিটি’ শব্দটি ব্যবহারকারীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি ওনাকে আল্লাহ আগে ম্যাচিউরিটি দান করুক। আমরা অনেক ম্যাচিউরিটি দেখছি এই সমাজে। ম্যাচিউরিটির জ্বালায় এখন মানুষ অতিষ্ঠ। ওই ম্যাচিউরিটি থেকে আল্লাহর দরবারে আমরা পানাহ চাই।’

অনুষ্ঠানে রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আবদুল কাইয়ুম মোল্লা বলেন, ‘চার বাংলাদেশি প্রতিযোগীর একজন প্রথম এবং তিনজন তৃতীয় হয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকার পুরস্কার নিয়ে দেশে ফিরেছেন। তবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা কোনো সম্মাননা বা সহযোগিতা পাননি। ভবিষ্যতে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সরকারি সম্মাননা ও সংবর্ধনার দাবি জানান তিনি।’


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন