টুক করে আপা কিন্তু ঢুকে পড়বে, খেয়াল রাখবেন : হাসনাত
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৫, ১৩:১০
ছবি : বাংলাদেশের খবর
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘আপা কিন্তু চুয়াডাঙ্গার পাশেই আছে। আপনাদের প্রতিরোধ করেই কিন্তু ওনাকে ঢাকায় যেতে হবে। টুক করে আপা কিন্তু ঢুকে পড়বে, খেয়াল রাখবেন।’
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটায় নাগরিক কমিটির আয়োজনে চুয়াডাঙ্গা রাইজিং অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে তিনটা নির্বাচনে যে ভোট দিয়েছে, সে ৩০-৪০টা করে দিয়েছে। আবার যে দিতে পারেনি, সে একটাও পারেনি। গত ১৬ বছর আপনাদের নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। গণহত্যার কারণে ইতিহাসে খুনি শেখ হাসিনার নাম লেখা থাকবে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়নের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিকল্প নেই। চুয়াডাঙ্গাতে কোনো উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়নি। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা যে সরকারই আসুক, শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটা রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হচ্ছে। আমরা দেখেছি, আমাদের প্রবীণ যে নেতৃত্ব রয়েছে, এই প্রবীণ নেতৃত্ব আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের তরুণদের মনুষ্যত্ব বুঝতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের তরুণদের কথা তারা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তরুণদের চিন্তা ও চেতনার সঙ্গে, আমাদের মনস্তত্ত্বের সঙ্গে তাদের যোজন-যোজনের দূরত্ব রয়েছে। প্রবীণরা যেখানে চিন্তা করে মোবাইল চালানোই হচ্ছে ধ্বংসের কারিগর, আমরা দেখেছি এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই আমাদের গণঅভ্যুত্থানের জোট তৈরি হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রবীণ রাজনীতিবিদরা আপসহীন ছিলেন না। আমাদের কাছে খবর আছে, কারা কারা তিনটা নির্বাচনে শেখ হাসিনার সঙ্গে আপস করেছে। কাদের সঙ্গে খুনি শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। কাদের কাদের সঙ্গে খুনি শেখ হাসিনা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। এই জিনিসগুলো কিন্তু আমাদের জানা রয়েছে।’
এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘আপনারা যারা আওয়ামী লীগের বিচার বাদ দিয়ে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের জন্য চিন্তা করছেন, এই তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে আপনারা দালালি করছেন আপনারা।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, এই আলোচনা অনেক পরে। আগে খুনি হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামানের বিচার করতে হবে। আওয়ামী লীগের কমিটির লিস্ট ধরে ধরে বিচার করতে হবে। তারপর আলোচনা হবে, আওয়ামী লীগ নির্বাচন করবে কি করবে না। আগে বিচার নিশ্চিতের জন্য রাজনৈতিক দল থেকে দাবি তুলুন। আওয়ামী লীগ আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।’
ফেরদৌস ওয়াহিদ/এমজে

