সারজিসের স্ত্রী কুরআনের হাফেজা, বিশেষ দোয়া মামুনুল হকের
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:০৬
ছবি : সংগৃহীত
দাম্পত্যজীবনে পা বাড়িয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্যসংগঠক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি স্ট্যাটাস দেন স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
পোস্টের সঙ্গে একটি ছবিও যুক্ত করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা, যেখানে বিয়ের সাজে সজ্জিত সারজিস আলমের সঙ্গে তিনি, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের পাশাপাশি রয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহসহ আরও অনেকে।
আসিফ মাহমুদের ওই পোস্টের পরই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয় সারজিসের বিয়ের খবর। শুভেচ্ছা জানাতে থাকেন সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
এবার সারজিসকে শুভ পরিণয়ের দোয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকও। শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ দোয়া জানান তিনি।
স্ট্যাটাসে মামুনুল হক লিখেন, ‘গত নভেম্বর মাসে সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে প্রথম সাক্ষাৎ। এরপর হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন রাত গভীরে হঠাৎ আমার কেবিনে তারা দুজন দেখতে এসেছিল আমাকে।’
‘এরপর গত ১৭ ই ডিসেম্বর গভীর রাতে তাবলীগ জামাতের মতবিরোধ নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়ে বেশ কজন সঙ্গী-সাথীসহ তারা দুজন এসেছিল কাকরাইল মসজিদে। সেখানে অনেকক্ষণ উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল তাদের সাথে।’

তিনি লিখেন, ‘কাকরাইল মসজিদে তারা উপস্থিত থাকতেই টঙ্গী ইজতেমার মাঠে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই পরিস্থিতিতে বারংবার তারা ফোনে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করতে থাকে। একপর্যায়ে সারজিস আলমের ফোনের ব্যালেন্স শেষ হয়ে যায়। তখন অপর আরেক সাথির কাছ থেকে কয়েকশো টাকার ব্যালেন্স চেয়ে নেয় সময়ের প্রভাবশালী এই ছাত্রনেতা।’
সারজিসের সাদাসিধে জীবনযাপন তাকে মুগ্ধ করেছে জানিয়ে হেফাজতনেতা লিখেন, ‘সময়ের আলোচিত এই দুই ছাত্রনেতার সাদাসিধে চালচলন এবং আর্থিক দৈন্যতা আমাকে মুগ্ধ করে। যে সমাজে সাধারণ ক্ষমতা পেয়ে ছাত্রনেতারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়, শত কোটি থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যায় রাতারাতি, সেই সময়ে রাষ্ট্র ক্ষমতার বিপুল প্রভাব নিয়েও সামান্য মোবাইল ব্যালেন্সের জন্য বন্ধুর শরণাপন্ন হতে হয়, সারজিসের এমন দৃশ্যে সত্যিই আমি অভিভূত হই।’
‘আজ সময়ের সেই তুমুল জনপ্রিয় ছাত্রনেতা সারজিস আলম জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে পদার্পণ করেছে। বধূ হিসেবে একজন কুরআনের হাফেজাকে বেছে নেওয়া কুরআনের প্রতি তার ভালোবাসারই প্রমাণ। সারজিসের এই শুভ পরিণয় বর্তমান তরুণ প্রজন্মের রুচি ও ভালবাসাকে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিনিধিত্ব করছে। আর তাই আমরা স্বপ্ন দেখতেই পারি, আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে এমন তরুণরা, আল কুরআনের প্রতি রয়েছে যাদের অগাধ প্রেম।’
নবদম্পতির প্রতি দোয়া জানিয়ে মামুনুল হক আরও লিখেন,‘বারাকাতের দুয়া সারজিস আলম ও তার নবপরিণিতার জন্য। সুখী হোক তোমাদের জীবন! শান্তিময় হোক তোমাদের নীড়!
আলোয় আলোয় ভরে উঠুক তোমাদের ঘর! উম্মতের মুখ উজ্জ্বল করা আলোকিত সন্তান আসুক তোমাদের কোলজুড়ে!بارك الله لكما وبارك عليكما وجمع بينكما فى خير‘
ডিআর/এটিআর

