আছাদুজ্জামানের শ্যালক সোহানের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৭:৫৭
হারিচুর রহমান সোহান। ছবি : সংগৃহীত
ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারিচুর রহমান সোহানের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) খিলগাঁও থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সাখাওয়াত হোসেন আদালতে এ আবেদন করেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, 'সোহানকে গ্রেপ্তারের পর সিটিটিসি আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। মঙ্গলবারই তাকে আদালতে তোলা হয়। পরে কারাগারে পাঠানো হয়। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছি। তবে শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি।'
মঙ্গলবার ভোররাতে রাজধানীর বেইলি রোডের একটি বাসা থেকে হারিচুর রহমান সোহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনের অভিযোগে তিনটি মামলা রয়েছে।
সোহান তার বোনজামাই কারাবন্দি সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার ক্যাশিয়ার ছিলেন। আছাদুজ্জামান ও তার পরিবারের হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ নিয়ে দুদক তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে তাদের পরিবারের ১০ সদস্যের ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
সোহানের সম্পদের হিসাব
হারিচুর রহমান সোহানের নামে রাজধানীর বেইলি রোড ও শাহজাহানপুরে ফ্ল্যাট, বনশ্রী ও আফতাবনগরে একাধিক প্লট রয়েছে। বনশ্রীর একটি প্লটে বাড়ির নির্মাণকাজ চলছে।
তিনি মৌমিতা পরিবহন লিমিটেড ও মধুমতি পরিবহন লিমিটেডের পরিচালক এবং নিউমার্কেটের পিওর গোল্ড লিমিটেড নামে স্বর্ণের দোকানের ভাইস চেয়ারম্যান।
২০২৪ সালের ১৫ মে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় তিন কোটি টাকা দিয়ে ৪৩ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, মূলত আছাদুজ্জামানের টাকা দিয়েই এই জমি কেনা হয়েছে।
এছাড়া সোহানের নামে ঢাকার বনশ্রী, আফতাবনগর ও ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফ্ল্যাট ও বাড়ি রয়েছে। তিনটি ডকইয়ার্ডে অন্তত ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে, যা মূলত আছাদুজ্জামানের বলে দুদক অভিযোগ করছে।
ময়মনসিংহের ভালুকা ও ত্রিশালে তার নামে অন্তত ১৫ কোটি টাকার ৫০ বিঘা জমি রয়েছে। ঢাকার সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান বাস টার্মিনালে তার নামে ইজারার মাধ্যমে ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে।
দুদকের অভিযোগসূত্র অনুযায়ী, এসব সম্পদের মূল মালিক সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
এইচকে/এমআই

