বাংলাদেশের অন্যতম পরিবেশবান্ধব নির্মাণশৈলী ভোলার খাসমহল জামে মসজিদ
এম ফাহিম
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:১৮
ভোলা চরফ্যাশনের অত্যন্ত সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থাপনা খাসমহল জামে মসজিদ। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে ধর্মীয় আবেশে বাংলাদেশে প্রথম পরিবেশবান্ধব মসজিদ। ভূগর্ভস্থ মেঝেসহ মসজিটি চারতলাবিশিষ্ট। এতে সাড়ে চার হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন একসঙ্গে।
মসজিদটিতে নারীদের জন্যও রয়েছে নামাজের ব্যবস্থা। অন্তত ৫০০ নারী একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তাদের জন্য রয়েছে আলাদা প্রবেশ পথ। উপজেলা পর্যায়ে বাংলাদেশে এই প্রথম নারীদের নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই মসজিদে। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় জ্যাকব টাওয়ার-সংলগ্নে মসজিদটি অবস্থিত।
মসজিদটি নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। পাঁচ বছর সময় লেগেছে কাজ শেষ করতে। প্রায় ২৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে মসজিদটির নির্মাণকাজে। বর্তমানে মসজিদে জুমার নামাজের ইমামতি করেন খতিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন।
মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে আমি এ মসজিদে খতিবের দায়িত্বে আছি। আল্লাহর এই ঘরটি আমার কাছে বেশ ভালো লাগে। মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে খুব মনোরম এবং নান্দনিকভাবে। বেশ খোলামেলা মসজিদটি। তাই মুসুল্লিরাও নামাজ আদায়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। নামাজ আদায় করতে প্রতি ওয়াক্তেই মুসল্লিদের ব্যাপক আগমন ঘটে মসজিদে। রমজানে তারাবির নামাজেও মুসুল্লিদের মেেধ্য বেশ আমেজ দেখা যায়।’
চরফ্যাশন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসান বলেন, ‘মসজিদটির প্রস্থ ১৭ হাজার বর্গফুট। চার দিকের দেয়ালে রয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টোন চিপসের সমন্বয়ে ফেয়ার ফেস সাদা সিমেন্টের প্লাস্টার। প্রতিটি দেয়াল সিরামিক ইটের গাঁথুনি। ফেয়ার ফেস প্লাস্টার স্থায়িত্ব ১০০ বছর। যা সম্পূর্ণ প্রকৃতিবান্ধব ও পরিবেশবান্ধব।’
ভোলা জেলা পরিষদ ও সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের উদ্যোগে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। মসজিদটির নকশা করেছেন ভোলার কৃতী সন্তান স্থপতি এ. কে এম কামরুজ্জামান লিটন। নির্মাণ ব্যয়ের ২৫ কোটি টাকার মধ্যে চরফ্যাশন পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা ব্যয় করে জ্যাকব টাওয়ার ও খাসমহল মসজিদের আশপাশে নান্দনিক সৌন্দর্য বর্ধনে মাঠ, রাস্তা ও ফুলের বাগানের বেষ্টনীর কাজ করা হয়েছে।
প্রাকৃতিকভাবেই আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে মসজিদের ভেতরে। কোনো ধরনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ইটের ফাঁকে ফাঁকে নির্মল বাতাস ও বৈদ্যুতিক ফ্যানের বাতাসেই পুরো মসজিদ শীতল থাকে। মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে কোনো ধরনের চাকচিক্য ছাড়াই। ভেতরে ঢুকলেই প্রাকৃতিক পরিবেশের ছোঁয়ায় যে কারো মন ভালো হয়ে যায়। মসজিদের ছাদে স্থাপন করা হয়েছে বিশাল আকৃতির কাচের গম্বুজ। ফলে দিনের বেলায় ভেতরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানোর প্রয়োজন হয় না। ইমাম ও মুয়াজ্জিনের থাকার ব্যবস্থাসহ রয়েছে দুই শতাধিক লোকের অজু, গোসল ও টয়লেটের ব্যবস্থা।
লেখক : চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

