ইবাদতের বিশেষ মৌসুম পবিত্র রমজান মাস। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। এ মাসের প্রধান ইবাদত ‘সিয়াম’ বা রোজা পালন করা। একজন মুমিনের উচিত পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালনের সাথে সাথে নফল ইবাদতকেও অধিক বাড়িয়ে দেওয়া। যেমন- ইস্তেগফার পাঠ, দুরুদ পড়া, অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির করা, কোরআন তিলাওয়াত করা ও অধিক পরিমাণে নফল নামাজ আদায় করা।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘রাসুল (সা.) বলেছেন, রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করল।’ (শোয়াবুল ইমান ৩/৩০৫)
নফল ইবাদতগুলোর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত হলো- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুরুদ পাঠ করা। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি এক বার “সালাত” প্রেরণ করবে (দরূদ পড়বে), আল্লাহ তার ওপর ১০ বার “সালাত” প্রেরণ করবেন (বিশেষ রহমত বর্ষণ করবেন)।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪০৮)
আবু বুরদাহ বিন নিয়ার (রা.)-এর হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও অধিক সুসংবাদ দান করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি দিলের ইখলাসের সাথে আমার প্রতি একটি সালাত প্রেরণ করবে, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার উপর ১০টি রহমত প্রেরণ করবেন। তার মর্তবা ১০ বার উন্নীত করবেন। তার জন্য ১০টি নেকি লিখে দেবেন এবং তার ১০টি গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৯৮১০)
আল্লাহু আকবার! মাত্র একবার দুরুদ শরিফ পাঠ করলে এত এত পুরস্কার! এত খায়ের ও বরকত! তাহলে কেউ ১০ বার দুরুদ পাঠ করলে আরও কত বেশি সওয়াব লাভ করবে! আর যদি কোনো বান্দা খুব বেশি নয়, ১০০ বার দুরুদ পাঠ করে, তাহলে আল্লাহ তাকে কী পরিমাণ দান করবেন? আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে এই রমজান মাসে অন্যান্য ইবাদতসহ বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
বিএইচ/

