মুসলিম মা-বাবার ঘরে জন্মগ্রহণ করলেই কিংবা নিজেকে মুসলিম দাবি করলেই প্রকৃত মুসলিম হওয়া যায় না; বরং প্রকৃত মুসলিম হওয়ার জন্য ঈমানের বিশুদ্ধতা অর্জন জরুরি। নিমগাছ লাগিয়ে আম ফলের আশা করা যেমন বোকামি, তেমনি ঈমানে ভেজাল ঢুকিয়ে নিজেকে প্রকৃত ঈমানদার ভাবাও বোকামি। মহান আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের প্রকৃত মুসলমান হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘হে বিশ্বাসীরা! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০৮)
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা পরিপূর্ণরূপে বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর ওপর, তাঁর রাসুলের ওপর এবং ওই কিতাবের ওপর, যা তিনি নাজিল করেছেন তাঁর রাসুলের ওপর এবং ওই সব কিতাবের ওপর, যা তিনি নাজিল করেছিলেন ইতিপূর্বে। আর যে কেউ অবিশ্বাস করে আল্লাহকে, তাঁর ফেরেশতাদের, তাঁর কিতাবসমূহকে, তাঁর রাসুলদের ও কিয়ামত দিবসকে, সে দূরতম ভ্রষ্টতায় নিপতিত হলো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৩৬)
এ ব্যাপারে ইসলামিক চিন্তাবিদ ও স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘শুধু নামেই মুসলমান হলে চলবে না, আমল ও ইবাদতের মাধ্যমে একজন ভালো ও মু'মিন মুসলমান হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কেউ যদি ভালো মুসলমান না হয়, তাহলে সে আল্লাহর খাতায় মুসলমান হতে পারবে না। ভালো মুসলমান না হলে জান্নাতি হওয়া যাবে না এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া যাবে না।’
কীভাবে একজন ভালো মুসলমান হওয়া যায়, সে বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন তিনি।
বিশুদ্ধ ঈমান
ভালো মুসলমান হওয়ার প্রথম শর্ত হলো ঈমানকে বিশুদ্ধ রাখা। ঈমানের মধ্যে কোনো শিরক থাকা যাবে না। আল্লাহর একত্ববাদ স্বীকার করার অর্থ হলো, তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করা। সন্তান লাভের জন্য অনেকেই মাজারে যান, যা ঈমান নষ্ট করে দেয়। দোয়া করতে হবে একমাত্র আল্লাহর কাছে।
সুন্দরভাবে নামাজ আদায়
ভালো মুসলমান হওয়ার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সুন্দরভাবে আদায় করতে হবে। নামাজ সুন্দরভাবে আদায়ের দুটি পদ্ধতির রয়েছে। প্রথমত, নামাজের ওয়াক্ত হওয়ার পর দেরি না করে আদায় করা। দ্বিতীয়ত, ধীরে ধীরে ও খুশু-খুজুর সঙ্গে নামাজ পড়া।
হালাল উপার্জন
উপার্জন হালাল হতে হবে। হারাম উপার্জন দ্বারা গঠিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। নারীদের এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তাদের কর্তব্য হলো নিজের স্বামী ও সন্তানদের হালাল উপার্জনে উৎসাহিত করা।
উত্তম আচরণ
ভালো মুসলমানের আচরণ সুন্দর হতে হবে।আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, এমনকি অমুসলিমদের সাথেও ভালো ব্যবহার করতে হবে এবং তাদের অধিকার আদায় করতে হবে।
ফরজ বিধান পালন ও হারাম বর্জন
ইসলামের মৌলিক ফরজ বিধানগুলো পালন করতে হবে এবং হারাম কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, এই কাজগুলো সঠিকভাবে পালন করতে পারলে একজন ব্যক্তি আদর্শ ও ভালো মুসলমান হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে ইনশাআল্লাহ।
আইএইচ/

