-68b0218070ddc.png)
আমাদের দেশে একটি বড় অংশ নারী অধিকার মানেই ‘নারীবাদ’ বলে ধরে নেন। অথচ নারী অধিকার মানেই নারীবাদ নয়, বরং ইসলামের প্রদত্ত অধিকারও নারী অধিকারের মৌলিক অংশ। দুঃখজনক হলেও সত্য, কিছু এনজিও বা সংগঠন বিদেশি দর্শন ও এজেন্ডা দিয়ে ‘নারী অধিকার’ কে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে, যাতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বা ধর্মীয় নীতি অনুসারে নারীর মর্যাদা নিয়ে একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে। অথচ ইসলাম সর্বাবস্থায় নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর- পূর্বেও ছিল, এখনো আছে এবং সামনেও থাকবে ইনশাআল্লাহ।
ইসলামে নারীর অধিকার
ইসলামের আগমন পূর্বে নারীরা সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিল। কন্যাশিশু জন্মের কারণে পিতারা কলঙ্কিত বোধ করতো এবং তাদের জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আর যখন জীবিত কবর দেওয়া কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হলো?’ (সূরা তাকওয়ীর, ৮–৯)
কিন্তু ইসলাম নারীর জীবন, মর্যাদা, উত্তরাধিকার, শিক্ষা, নিরাপত্তা সবকিছুর নিশ্চয়তা দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবার-পরিজনের জন্য উত্তম আচরণকারী। আর আমি আমার পরিবারের জন্য তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।’ (তিরমিযী, হাদীস ৩৮৯৫)
পুরুষ-নারীর দায়িত্ব বণ্টন
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পুরুষরা নারীদের অভিভাবক ও রক্ষক, কারণ আল্লাহ তাদেরকে একে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে।’ (সূরা নিসা, ৩৪)
এখানে রক্ষক বলতে কর্তৃত্বপরায়ণতা নয়; বরং দায়িত্বশীলতা, সুরক্ষা দেওয়া এবং ভরণপোষণ নিশ্চিত করা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।’ (বুখারী ও মুসলিম)
নারীর মতামতের গুরুত্ব
ইসলামে নারীর মতামত অগ্রাহ্য করা অনুমোদিত নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কিরামের পরামর্শ না নিয়ে উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)-এর পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন হুদায়বিয়ার সন্ধির ঘটনায়। (বুখারী, হাদীস ২৭৩১)
এছাড়া, কন্যার বিয়েতে তার মতামত নেওয়ার ব্যাপারে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো কুমারী মেয়ের বিয়েতে তার অনুমতি নিতে হবে।’ (মুসলিম, হাদীস ১৪১৯)
উত্তরাধিকার ও সামাজিক সমস্যা
ইসলামে নারীর ওয়ারিস নিশ্চিত করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়রা যা কিছু রেখে যায়, তাতে পুরুষেরও অংশ আছে, নারীরও অংশ আছে। তা অল্প হোক বা বেশি- এটি একটি নির্ধারিত অংশ।’ (সূরা নিসা, ৭)
নারীকে সেবাদাস নয়, সহচরী হিসেবে দেখা
আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও। এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।’ (সূরা রূম, ২১)
শিক্ষা ও নির্দেশনা
নারীর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা ইসলামের অংশ। রাসূলুল্লাহ (সা.) নারীদের জন্য আলাদা দিনে শিক্ষাসভা পরিচালনা করেছেন। (বুখারী, হাদীস ১০১)
নারী অধিকার ইসলামের মৌলিক অংশ। একে রাজনৈতিক মঞ্চের হাতিয়ার বানালে এর সৌন্দর্য হারিয়ে যায়। প্রয়োজন কোমল ভাষায় ইসলামের প্রদত্ত সমাধানগুলো উপস্থাপন করা। নারী আমাদের সহচরী, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।
আইএইচ/