Logo

ধর্ম

জুমার দিন যে দরুদ পাঠে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হয়

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১২:৩৭

জুমার দিন যে দরুদ পাঠে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হয়

শুক্রবার মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক উৎসবের দিন। এই দিনকে 'ইয়াউমুল জুমা' বলা হয়। আল্লাহ তাআলা নভোমণ্ডল, ভূমন্ডল ও গোটা জগতকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। এই ছয় দিনের শেষ দিন ছিলো জুমার দিন। এই দিনেই হযরত আদম (আ.) সৃজিত হন। এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নামানো হয়। কেয়ামত এই দিনেই সংগঠিত হবে। আল্লাহ তাআলা প্রতি সপ্তাহে মানবজাতির সমাবেশ ও ঈদের জন্য এ দিন নির্ধারিত করেছিলেন। কিন্তু পূর্ববর্তী উম্মত রা তা পালন করতে ব্যর্থ হয়। ইসলামে জুমার গুরুত্ব অপরসীম।

স্বয়ং আল্লাহ পাক কোরআনে কারীমে এরশাদ করেন, 'হে মুমিনগণ জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের উদ্দেশ্যে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ করো। ( সূরা জুম'আ, আয়াত নং ৯)

তাই জুমার আজানের আগেই সব কর্মব্যস্ততা ত্যাগ করে জুমার নামাজের প্রস্তুতি গ্রহণ করতঃ মসজিদে গমন করা সকল মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, তখন মানুষ যে দোয়াই করে তা-ই কবুল হয়। জুমার দিনে বিশেষ কিছু আমল রয়েছে যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। 

এর মধ্যে কয়েকটি আমল হল-

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা এবং রমজানের মধ্যবর্তী সময়ে যে সব গুনাহ হয়ে থাকে তা পরবর্তী নামাজ, জুমা এবং রমজান (পালনে) সে সব মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়। যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।’ (মুসলিম, তিরিমজি)।

উল্লেখিত হাদিসের আলোকে বুঝা যায় যে, কোনো ব্যক্তি যদি ফজরের নামাজ পড়ার পর পরদিন ফজরের নামাজ আদায় করে তবে এ সময়ের মধ্যে করা সব (কবিরা গুনাহ ব্যতিত ) গুনাহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিবেন। অনুরূপভারে এক জুমা থেকে অপর জুমা এবং এক রমজানের রােজা আদায়ের পর থেকে পরবর্তী রমজানের রােজা আদায় করা পর্যন্ত ওই ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত পূর্ণ এক বছরের সব (কবিরা গুনাহ ব্যতিত) গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

জুমার দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে ফজিলতপূর্ণ অনেক আমল । এগুলাের মধ্যে তিনটি আমল অনেক গুরুত্বপূর্ণ । আর তা হলাে-

১। জুমার দিন সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা। পবিত্র কোরআনুল কারিমের ১৫ তম পারার ১৮ নং সুরা এটি । যদি কেউ সম্পূর্ণ সুরাটি তেলাওয়াত করতে না পারে তবে সে যেন এ সুরার প্রথম এবং শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করে।

এই আমলের ফজিলত হল- যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য এক জুমা থেকে অপর (পরবর্তী) জুমা পর্যন্ত নূর হবে। সে আটদিন পর্যন্ত সর্বপ্রকার ফেতনা থেকে মুক্ত থাকবে। যদি দাজ্জাল বের হয় তবে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকেও মুক্ত থাকবে। এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত তার সব ( কবিরা গুনাহ ব্যতিত ) গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। (সুনানে দারেমি: ৩৪০৭, আমালুল ইয়াওমী ওয়াললাইল : ৯৫২)

২। জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ। যদি কোনাে ব্যক্তি একবার দরুদ পড়ে তবে তার প্রতি ১০ টি রহমত নাজিল হয়। (আবু দাউদ : ১০৪৮) 

অন্য রেওয়াতে নবি করিম (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন আসরের নামাজের পর নিজ স্থান থেকে ওঠার আগে ৮০ বার এই দরুদ শরিফ পাঠ করে-

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আ’লা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আ’লা আলিহি ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা।’

তার ৮০ বছরের গোনাহ মাফ হবে এবং ৮০ বছর ইবাদতের সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে। সুবহানাল্লাহ! (আফজালুস সালাওয়াত)

৩। জুমার দিন দোয়া কবুলের কিছু সময় বা মুহূর্ত রয়েছে; সে সময়গুলােতে বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তেগফার করা। বিশেষ করে জুমার দিন ও জুমার নামাজ আদায় মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক গুরুত্ব ও ফজিলতপূর্ণ। এ দিনের প্রতিটি আমলই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার নামাজ পরিত্যাগ করার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে অলসতাবশত তিনটি জুমআ ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তাআলা তার হৃদয়ে মােহর মেরে দিবেন। (মুসলিম, তিরমিজি)

সুতরাং, আমাদের উচিৎ জুমার দিনের আমলগুলো যথাযথ আদায় করে জুমার নামাজ পড়া। তবেই আমরা ইহকাল ও পরকালে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা পেয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

আইএইচ/

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর