-68b25f4a6b90c.png)
পবিত্র কোরআনের একটি মর্যাদাসম্পন্ন সুরা হলো সুরা ইয়াসিন। একে ‘কোরআনের হৃদয়’ বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামের আমল ও বর্ণনায় এ সুরার নানা ফজিলতের কথা এসেছে। প্রাত্যহিক সুরা ইয়াসিন পাঠে বিশেষ ৬টি ফজিলত নিম্নে তুলে ধরা হলো-
১. প্রয়োজন পূরণ হয়
হজরত আতা ইবনে আবি রাবাহ (রহ.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি দিনের শুরুতে সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে, তার যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ হবে।’ (সুনানে দারেমি: ২/৫৪৯; ফাজায়েলে আমল: ১/৫২)
২. সারাদিন শান্তি-স্বস্তিতে রাখা হয়
হজরত ইয়াহইয়া ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘যে সকালে সুরা ইয়াসিন পড়বে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বস্তিতে থাকবে। আর যে সন্ধ্যায় পড়বে, সে সকাল পর্যন্ত শান্তিতে থাকবে।’ (আহকামুল কোরআন লিল-কুরতুবি: ২/১৫)
৩. গুনাহ মাফের মাধ্যম
হজরত জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাতে সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান: ২৫৭৪; তাফসিরে ইবনে কাসির: ৬/৫৬২)
অন্য এক হাদিসে আছে, ‘ওই রাতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (ইবনুস সিন্নি, আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ: ৪৭)
৪. মৃত্যুযন্ত্রণা লাঘব হয়
প্রবীণ তাবেয়িদের বর্ণনায় এসেছে, মৃত্যুশয্যায় শায়িত ব্যক্তির কাছে সুরা ইয়াসিন পড়া হলে তার কষ্ট লাঘব হয়। সাহাবি গুজাইফ ইবনুল হারেস (রা.)-এর মৃত্যুযন্ত্রণার সময় তাবেয়িরা তার কাছে গেলে তিনি সুরা ইয়াসিন পড়তে বলেন। পরে সাহাবি সালেহ ইবনে শুরাইহ পাঠ শুরু করলে উপস্থিত তাবেয়িরা বলেন, এটি মৃত্যুযন্ত্রণা হালকা করে। (মুসনাদে আহমদ: ১৬৯৬৯)
৫. কবরবাসীর আজাব কমে যায়
হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কবরস্থানে গিয়ে সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে, আল্লাহ কবরবাসীদের আজাব হালকা করে দেবেন। আর পাঠকারীর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ সওয়াব লিখে দেবেন।’ (শারহুস সাদুর: ৩০)
৬. দশবার কোরআন পড়ার সওয়াব
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক কিছুর হৃদয় আছে, আর কোরআনের হৃদয় হলো সুরা ইয়াসিন। যে একবার সুরা ইয়াসিন পড়বে, তার জন্য দশবার পুরো কোরআন পড়ার সমান সওয়াব লেখা হবে।’ (তিরমিজি: ২৮৮৭; বায়হাকি, শুআবুল ঈমান: ২২৩৮)
যদিও এ হাদিসটি দুর্বল, তবুও ফাজায়েলের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিস গ্রহণযোগ্য। ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘মুহাদ্দিস, ফকিহ ও ওলামায়ে কেরাম একমত যে, ফাজায়েল, তারগিব (উৎসাহ প্রদান) এবং তারহিব (ভীতি প্রদর্শন)-এর ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসে আমল করা যায়, যদি তা জাল না হয়।’ (আল আজকার: ৭-৮)
সুরা ইয়াসিন পাঠের মাধ্যমে মুমিনের জীবনে শান্তি, প্রশান্তি ও রহমত বর্ষিত হয়। তাই দৈনন্দিন আমলে এ সুরাটি পাঠের চেষ্টা করা উচিত।