-68b2818802377.png)
মানবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য সর্বপ্রথম যে উপাদান প্রয়োজন, তা হলো শিক্ষিত জনসমাজ। শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড; এটি অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে মানুষকে আলোয় আনে এবং কল্যাণের পথে পরিচালিত করে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষকে সোনা-রুপার খনির সঙ্গে তুলনা করেছেন। যেমন পৃথিবীতে খনিজের মধ্যে সোনা-রুপার মর্যাদা বেশি, তেমনি সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান হলো সে ব্যক্তি, যে দ্বিনি জ্ঞান অর্জন করে।
হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ সোনা-রুপার খনির মতো। জাহেলিয়াতের যুগে যারা উত্তম ছিল, দ্বিনের জ্ঞান অর্জন করলে তারা ইসলামের যুগেও উত্তম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩৮৩)
জ্ঞানের উৎস ও নবীদের ভূমিকা
মানবসমাজের সূচনা হয়েছিল হজরত আদম (আঃ)-এর মাধ্যমে। তারপর ধারাবাহিকভাবে আল্লাহ অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন, যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের কাছে জ্ঞান ও হিদায়াত পৌঁছে দিয়েছেন। এ জ্ঞানের মাধ্যমেই মানুষের বুদ্ধি বিকশিত হয়েছে, গবেষণার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে এবং সভ্যতা সমৃদ্ধ হয়েছে।
এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ উদাহরণ নবী মুহাম্মদ (সা.)। তিনি জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত আরব সমাজকে স্বল্প সময়ে ঈমান ও জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত করেন।
হেরা পর্বতে তাঁর ইবাদতের সময় আল্লাহ তাআলা ওহির মাধ্যমে প্রথম যে পাঁচ আয়াত নাজিল করেন, তা-ই হলো মানবজাতির জন্য জ্ঞানের মহান দরজা; পড়ুন, আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়ুন, আর আপনার প্রতিপালক পরম দয়ালু। যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। (সূরা আল-আলাক, আয়াত: ১-৫)
জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে সিজদাবনত হয় ও দাঁড়িয়ে থাকে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার রবের রহমত প্রত্যাশা করে-সে কি তার সমান, যে তা করে না? বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান? কেবল বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরাই উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৯)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পৃথিবী অভিশপ্ত এবং এর ভেতরে যা কিছু আছে, তাও অভিশপ্ত। তবে আল্লাহর জিকির, তা-সংক্রান্ত বিষয়, আলেম এবং তালেবে ইলম ছাড়া।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৩২২)
অন্য হাদিসে তিনি (সা.) বলেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।’ (ইবন মাজাহ, হাদিস: ২২৪)
ইলমের মর্যাদা ও সদকায়ে জারিয়া
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘করুণাময় আল্লাহ; তিনি শিক্ষা দিলেন কোরআন, সৃষ্টি করলেন মানুষকে এবং তাকে শিখালেন স্পষ্ট বর্ণনা।’ (সূরা আর-রাহমান, আয়াত: ১-৪)
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি ছাড়া- সদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যার দ্বারা উপকার পাওয়া যায় এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬৩১) এই ইলম এমন এক সম্পদ যা মৃত্যুর পরও মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য সওয়াব প্রবাহিত হয়।
সুতরাং, জ্ঞানার্জনই হলো মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধির সোপান এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম উপায়। একজন আলেম বা দ্বিনি জ্ঞানার্জনকারী সমগ্র সমাজকে আলোকিত করে। তাই প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব হলো দ্বিনি ও কল্যাণকর জ্ঞান অর্জনে সচেষ্ট হওয়া।
আইএইচ/