-68b2b2fc92e91.png)
একজন মুসলমানের বিশ্বাস হল- মৃত্যুর পর কবরের জীবন রয়েছে। সেখানে নেক আমলের কারণে শান্তি ও সুখ আর গুনাহের কারণে আজাব হবে। মানুষ মৃত্যুর পর আর কোনো আমল করতে পারে না। তবে জীবিতদের পক্ষ থেকে করা কিছু নেক আমল (দান, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি) তাদের কাছে পৌঁছায়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমল ছাড়া: ১। চলমান সদকা, (সদকায়ে জারিয়া) ২। এমন ইলম যা থেকে উপকৃত হওয়া হয়, ৩। নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৩১)
যেহেতু কবরবাসীরা নিজেরা কিছু করতে পারে না, তাই তারা জীবিতদের দোয়া ও সদকার জন্য অপেক্ষা করে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃতদের উপমা দিয়েছেন এমন একজন মানুষের সঙ্গে, যে পানিতে ডুবে যাচ্ছে এবং সাহায্যের জন্য ডাকছে। তারা নিজেদের পরিবার, সন্তান ও প্রিয়জনের দোয়ার অপেক্ষা করে। (শু‘আবুল ঈমান, হাদিস: ৭৯০৫)
হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, আমি নবীজিকে জিজ্ঞেস করলাম- ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা মৃতদের জন্য দোয়া করি, সদকা করি, হজ করি- এসব কি তাদের কাছে পৌঁছায়?’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, এগুলো তাদের কাছে পৌঁছে যায় এবং তারা তাতে আনন্দিত হয়, যেমন আমরা দুনিয়ায় উপহার পেয়ে খুশি হই।’ (হাদিয়াতুল ইহইয়া : ৮)
আরেক হাদিসে এসেছে, এক সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমার মা মারা গেছেন, আমি তার পক্ষ থেকে সদকা করলে কি তিনি উপকৃত হবেন?’ নবীজি (সা.) বললেন, “হ্যাঁ।” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৩৮৮)
যে উপহার মৃতরা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মৃতদের হাদিয়া দাও।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! মৃতদের হাদিয়া কী?’ তিনি (সা.) বললেন, “সদকা ও দোয়া।” (হাদিয়াতুল ইহইয়া : ৮) অতএব, দোয়া-ইস্তেগফার ও সদকা মৃতদের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।
সন্তানের দোয়ায় পিতা-মাতার মর্যাদা বৃদ্ধি
পিতা-মাতা আমাদেরকে সারাজীবন লালন-পালন করেন। শিশুকাল থেকে নিজের পায়ে দাড়াঁনো পর্যন্ত সর্বপ্রকার দেখভাল ও সহযোগিতা করে থাকেন। যেকোনো প্রয়োজনে দুনিয়ার অন্য কেউ পাশে না থাকলেও পিতা-মাতা কখনোই আমাদেরকে একা হতে দেন না। সেই তারা যখন দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে ইহকালে পাড়ি জমান, তখন আমাদের কর্তব্য হল তাদের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করা। আর আমরা তাদের জন্য দোয়া বা ইস্তেগফার করলে জান্নাতে তাদের মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতে আল্লাহ কারো মর্যাদা বৃদ্ধি করলে তিনি বলবেন, ‘হে আমার রব! এটা কেন হলো?’ আল্লাহ বলবেন, ‘তোমার সন্তানের ইস্তেগফারের কারণে।’ (হাদিয়াতুল ইহইয়া : ১২)
দান-সদকার কারণে কবরের আজাব দূর হয়
হজরত উকবা ইবনে আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সদকা কবরের অধিবাসীদের থেকে তীব্র গরম দূর করে এবং কিয়ামতের দিন মানুষ নিজের সদকার ছায়ায় থাকবে।’ (শু‘আবুল ঈমান, হাদিস: ৩৩৪৭)
মৃতদের আহ্বান
এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, ‘প্রতি জুমাবারে মৃতদের রূহ প্রথম আসমানে আসে এবং নিজ নিজ বাড়িঘরের দিকে তাকিয়ে আহ্বান করে, ‘হে আমার পরিবার! আমাদের জন্য দোয়া করো, সদকা করো, আমাদের কথা ভুলো না। তোমাদের সম্পদ একদিন আমাদের ছিল, কিন্তু আমরা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করিনি। এখন তা আমাদের জন্য আজাবের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ (হাদিয়াতুল ইহইয়া : ৬)
তাই জীবিতদের উচিত নিজেদের মৃত আত্মীয়দের জন্য নিয়মিতভাবে, অল্প হলেও সদকা ও দোয়া করা। সেটাই কবরবাসীদের জন্য প্রকৃত উপহার।
মৃতরা কবরের জীবনে সাহায্যপ্রার্থী হয়ে থাকে। তারা নিজেরা আমল করতে পারে না, তাই জীবিতদের দোয়া, ইস্তেগফার, সদকা, কোরআন তিলাওয়াতের অপেক্ষায় থাকে। এগুলোই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার, যা তাদের কবরের অন্ধকার দূর করে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবরবাসীদের জন্য সঠিকভাবে ইসালে সওয়াব পাঠানোর তাওফিক দান করুন, আমিন।
আইএইচ/