Logo

ধর্ম

সৎকর্মশীলা নারীদের জন্য জান্নাতে যে বিশেষ নিয়ামত রয়েছে

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০৬

সৎকর্মশীলা নারীদের জন্য জান্নাতে যে বিশেষ নিয়ামত রয়েছে

যে নারী-পুরুষ আল্লাহর ওপর ঈমান আনবে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন গঠন করবে, সে জান্নাত লাভের আশা করতে পারে। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি তোমাদের কোনো কর্ম নষ্ট করব না- পুরুষের হোক বা নারীর। তোমরা একে অপরের অংশ। যারা হিজরত করেছে, ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, আমার পথে কষ্ট সহ্য করেছে, যুদ্ধ করেছে এবং শহীদ হয়েছে- আমি অবশ্যই তাদের পাপসমূহ মুছে দিয়ে তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। আর আল্লাহর কাছে রয়েছে উত্তম প্রতিদান।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯৫)

কুরআনে জান্নাতের বর্ণনায় কোথাও কেবল পুরুষের জন্য সীমাবদ্ধ করা হয়নি। বরং বলা হয়েছে, ‘তা মুত্তাকিদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।’

(সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩)

অতএব, জান্নাতের অসংখ্য নেয়ামত নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। এবার দেখা যাক, জান্নাতে নারীরা কী কী বিশেষ নেয়ামত লাভ করবেন।

১. চির যৌবন ও অপরূপ সৌন্দর্য

জান্নাতি নারীরা হুরের মতো সুন্দর হবেন, তবে তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকবে। যদি কোনো নারী দুনিয়ায় বৃদ্ধা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তবে জান্নাতে তিনি পুনরায় যুবতী ও লাবণ্যময়ী হয়ে উঠবেন।

রাসুল (সা.)-এর কাছে এক বৃদ্ধা মহিলা জান্নাতের দোয়া চাইলে তিনি বলেন, ‘বৃদ্ধা নারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’এ কথা শুনে সে কেঁদে চলে গেলে নবী (সা.) ব্যাখ্যা করলেন, ‘তাকে জানিয়ে দাও- জান্নাতে কোনো নারী বৃদ্ধা অবস্থায় প্রবেশ করবে না। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি এবং তাদেরকে করেছি কুমারী।’ (সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত: ৩৫-৩৬; শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস: ১৭৯)

২. স্বামীভক্ত ও সমবয়সী হবেন

জান্নাতি নারীরা তাদের স্বামীদের প্রতি পূর্ণ অনুগত ও স্নেহশীলা হবেন। তাঁরা স্বামীদের সমবয়সী হবেন, যা জান্নাতে সুখ-শান্তি ও প্রেমময় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। কোরআনে এরশাদ হচ্ছে, ‘তারা হবে সোহাগিনী ও সমবয়সী।’ (সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত: ৩৭)

৩. দুনিয়ার স্বামীকেই পাবেন

যদি কোনো নারীর স্বামী জান্নাতি হন, তবে জান্নাতে সেই স্বামীকেই পাবেন। তবে সেখানে স্বামীর সব অপূর্ণতা ও দোষ দূর হয়ে যাবে। যদি কোনো নারী একাধিকবার বিবাহিত হয়ে থাকেন, তবে তিনি তাঁর শেষ স্বামীকেই জান্নাতে স্বামী হিসেবে পাবেন। হুজাইফা (রা.) তাঁর স্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘তুমি চাইলে জান্নাতেও আমার স্ত্রী হতে পারো। তাই আমার মৃত্যুর পর অন্যত্র বিয়ে কোরো না। কারণ জান্নাতে নারী তার শেষ স্বামীকেই পাবে।’ (বায়হাকি)

এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্ত্রীদের জন্য তাঁর মৃত্যুর পর বিয়ে হারাম করা হয়েছিল। তাঁরা জান্নাতেও তাঁর স্ত্রী হবেন। আর যারা বিয়ের আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের জন্য আল্লাহ জান্নাতে যোগ্য স্বামী ঠিক করে দেবেন।

৪. হুরদের সাথে সুসম্পর্ক

কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, জান্নাতে পুরুষদের হুর দান করা হবে। তবে দুনিয়ার স্ত্রী হবেন তাদের রানি ও সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গিনী। হুরদের সঙ্গে তাদের কোনো বিবাদ, ঈর্ষা বা দূরত্ব থাকবে না।

আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদের অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেবো; তারা ভাই ভাই হয়ে আসনে মুখোমুখি বসবে।’ (সূরা হিজর, আয়াত: ৪৭)

এটি নারী-পুরুষ সকল জান্নাতিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। জান্নাতে কারো অন্তরে ঈর্ষা বা বিদ্বেষ থাকবে না।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের মুখ হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল। সেখানে তারা থুতু ফেলবে না, নাক ঝাড়বে না, মলমূত্র ত্যাগ করবে না। তাদের বাসনপত্র হবে স্বর্ণের, চিরুনি হবে স্বর্ণ ও রৌপ্যের। ধূপ হবে সুগন্ধি কাঠের, আর তাদের ঘাম হবে মিসকের মতো সুগন্ধি। প্রত্যেকের জন্য থাকবে দুজন স্ত্রী, যাদের সৌন্দর্যের কারণে হাড়ের মজ্জা পর্যন্ত দেখা যাবে। তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ বা হিংসা থাকবে না। সবার হৃদয় হবে এক হৃদয়ের মতো। তারা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবিহ করবে।’

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৪৫)

৫. পূর্ণ চারিত্রিক পবিত্রতা

জান্নাতের নারীরা চরিত্রের দিক থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র হবেন। তাঁরা কেবল স্বামীদের প্রতিই সীমাবদ্ধ থাকবেন। অন্য কারো প্রতি কোনো আকর্ষণ থাকবে না।

আল্লাহ বলেন, ‘সেখানে থাকবে সতীসাধ্বী সংযত-নয়না কুমারীরা, যাদের স্পর্শ করেনি কোনো মানুষ বা কোনো জিন।, (সূরা আর রহমান, আয়াত: ৫৬)

এর দ্বারা বোঝা যায়, জান্নাতি নারীরা হবেন হুরদেরও সর্দার এবং সম্পূর্ণ সতীসাধ্বী।

অতএব, জান্নাতে শুধু পুরুষগণই থাকবেন এমন নয়, বরং নারীরাও সেখানে সমানভাবে চিরন্তন সুখ-শান্তি ও অগণিত নেয়ামতের অধিকারী হবেন।

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

আল কোরআন আল হাদিস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন