স্বামী অভদ্র ভাষায় কথা বললে স্ত্রী কেমন আচরণ করবেন?
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৪২
দাম্পত্য জীবন আল্লাহ তাআলার দেওয়া এক বিশেষ নিয়ামত। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে তিনি ভালোবাসা ও শান্তির ভিত্তিতে স্থাপন করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক সময় স্বামীগণ স্ত্রীর সাথে অভদ্র ভাষায় কথা বলেন, গালাগালি করেন এবং এমনকি অন্যদের সামনে অপমান করেন। ইসলাম এ ধরনের আচরণকে কঠোরভাবে নাজায়েয ও হারাম ঘোষণা করেছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে উত্তমভাবে জীবন-যাপন করো।’ (সূরা আন-নিসা ৪:১৯)
আরও এরশাদ হচ্ছে, ‘যদি তোমরা তাদের অপছন্দ করো, তবে সম্ভবত তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করছ অথচ আল্লাহ তাতে অনেক কল্যাণ রেখেছেন।’ (সূরা আন-নিসা ৪:১৯)
এই আয়াতসমূহ থেকে স্পষ্ট যে, প্রত্যেক স্বামীর দায়িত্ব হল- স্ত্রীর সাথে ভালোবাসা দেখানো এবং ভদ্র আচরণ করা।
ইসলামে গালি দেওয়া অত্যন্ত গর্হিত একটি কাজ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন ‘মুমিনকে গালি দেওয়া হলো ফুসূক (পাপ), আর তার সাথে যুদ্ধ করা হলো কুফর।’ (সহীহ আল-বুখারী ৪৮, সহীহ মুসলিম ৬৪)
আরও বর্ণিত হয়েছে ‘ঈমানদার ব্যক্তি অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী, অশ্লীল কাজে লিপ্ত বা অশোভন কথাবার্তা ব্যবহারকারী হতে পারে না।’ (সুনান আত-তিরমিজি ১৯৭৭, সহীহ)
এ থেকে বোঝা যায়, গালি সর্বাবস্থায় খারাপ, সেটা ভদ্র ভাষায় বা অভদ্র ভাষায় যেটাই বলুন না কেন এমন আচরণ নিষিদ্ধ এবং নাজায়েজ। আবার নিজের স্ত্রীকে গালি দেওয়া মানে দ্বিগুণ গুনাহ। প্রথমত একজন মুসলিমকে কষ্ট দেওয়া। দ্বিতীয়ত নিজের স্ত্রীকে অপমান করা, যাকে আল্লাহ সম্মানের সাথে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
মনে রাখতে হবে স্বামীর নিকট তার স্ত্রী একটি দায়িত্ব ও আমানত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করে। আর আমি তোমাদের মধ্যে স্ত্রীদের সাথে সর্বোত্তম আচরণকারী।’ (সুনান আত-তিরমিজি ৩৮৯৫)
অতএব, প্রত্যেক স্বামীর উচিত এসমস্ত অশ্লীলতা ও গালিগালাজ থেকে বেঁচে থাকা। যদি নিজের অজান্তে বা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু হয়ে যায় তাহলে আন্তরিকভাবে তওবা ও এস্তেগফার করা এবং স্ত্রীর সাথে কোমল ভাষায় ও সম্মানের সাথে কথা বলা।
এ বিষয়ে স্ত্রীর করণীয় হল সবর ও ধৈর্য ধারণ করা। আল্লাহ বলেন ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।’ (সূরা আল-বাকারা ২:১৫৩)
নিজ স্বামীকে নরম ভাষায় নসিহা করা ও প্রয়োজনে বিশ্বস্ত কারো মাধ্যমে বোঝানো যে এমন গর্হিত কাজ করা সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ। পাশাপাশি স্বামীর শুভবুদ্ধি উদয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে আছে স্বস্তি।’ (সূরা আল-ইনশিরাহ ৯৪:৬)
আইএইচ/

