Logo

ধর্ম

সন্তানের ওপর পিতা–মাতার যে ১৪টি হক রয়েছে

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৪৭

সন্তানের ওপর পিতা–মাতার যে ১৪টি হক রয়েছে

পিতা–মাতা আল্লাহ ও রাসূল (সা.) এর পর সন্তানের জন্য সর্বাধিক সম্মান ও ভালোবাসার অধিকারী। কোরআন ও হাদিসে তাঁদের হক্ব ও মর্যাদা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্তান যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন পিতা–মাতার আনুগত্য, সেবা ও দোয়া করার দায়িত্ব থেকে সে মুক্ত নয়। জীবদ্দশায় হোক কিংবা মৃত্যুর পর- সন্তানের কর্তব্য হলো তাঁদের জন্য কল্যাণের চেষ্টা করা।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সঙ্গে শরিক করো না এবং পিতা–মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।’ (সুরা-৪ নিসা, আয়াত: ৩৬)। ‘আর আমি নির্দেশ দিয়েছি মানুষকে, তার পিতা–মাতার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার।’ (সুরা-৪৬ আহকাফ, আয়াত: ১৫)। ‘আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি যে তুমি আমার এবং তোমার পিতা–মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে।’ (সুরা-৩১ লুকমান, আয়াত: ১৪)। 

এক সাহাবি (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)–কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)! আমার পিতা–মাতা ইন্তেকালের পরেও কি তাদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহারের কোনো কিছু দায়িত্ব অবশিষ্ট আছে?’ তখন নবী করিম (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, আছে। তা হলো তাঁদের জন্য দোয়া করা, তাঁদের গুনাহের জন্য তওবা–ইস্তিগফার করা, তাঁদের শরিয়তসম্মত অসিয়তগুলো আদায় করা, তাঁদের আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, তাঁদের বন্ধুবান্ধবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। এগুলো পিতা–মাতার মৃত্যুর পরও তাঁদের সঙ্গে উত্তম আচরণের শামিল।’ (আবু দাউদ)। অন্য হাদিসে আছে, ‘পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি, পিতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি।’ (তিরমিজি)। পিতা–মাতার জন্য দোয়া করতে কোরআনের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা শিখিয়েছেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেভাবে শৈশবে তাঁরা আমাকে প্রতিপালন করেছেন।’ (সুরা-১৭ বনী ইসরাইল, আয়াত: ২৪)।

একজন সাহাবি নবীজি (সা.)–কে জিজ্ঞেস করলেন, আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার অধিকার সবচেয়ে বেশি কার? নবীজি (সা.) বললেন, তোমার মায়ের। সাহাবি পুনরায় প্রশ্ন করলেন, নবীজি (সা.) বললেন, তোমার মায়ের। সাহাবি আবারও জানতে চাইলেন, নবীজি (সা.) বললেন, তোমার মায়ের। এরপর সাহাবি জানতে চাইলে নবীজি (সা.) বললেন, তোমার বাবার। (বুখারি ও মুসলিম)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পিতা–মাতা হলো তোমার জান্নাত এবং জাহান্নাম অর্থাৎ তুমি ইচ্ছা করলে তাদের খেদমত করে উত্তম আচরণের মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করতে পারো; আবার ইচ্ছা করলে তাদের অবাধ্য হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করতে পারো।’ (ইবনে মাজাহ)। পিতা–মাতার অবাধ্যতার জন্য যেমন রয়েছে অভিসম্পাত, তেমনি তাঁদের আনুগত্যের জন্য রয়েছে পুরস্কারের ঘোষণা। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘যখন কোনো অনুগত সন্তান স্বীয় পিতা-মাতার প্রতি অনুগ্রহের নজরে দৃষ্টিপাত করে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে কবুল হজের সওয়াব দান করেন।’ (বায়হাকি)।

একজন সন্তানের ওপর পিতা–মাতার প্রতি ১৪টি হক বা দায়িত্ব রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি তাঁদের জীবদ্দশায় আর সাতটি তাঁদের ইন্তেকালের পর।

জীবিত অবস্থায় ৭টি করণীয় কর্তব্য হলো

১. সম্মান ও শ্রদ্ধা করা,

২. ভালোবাসা,

৩. মান্য করা,

৪. সেবাযত্ন করা,

৫. সুখ–শান্তির চিন্তা ও ব্যবস্থা করা,

৬. প্রয়োজন পূরণ করা ও

৭. দূরে থাকলে দেখা–সাক্ষাৎ করা।

ইন্তেকালের পর ৭টি করণীয় হলো

১. তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনামূলক দোয়া করা,

২. ইবাদতের মাধ্যমে সওয়াব রেসানি করা,

৩. তাঁদের বন্ধুবান্ধব ও নিকট স্বজনদের সম্মান করা,

৪. তাঁদের বন্ধুবান্ধব ও নিকট স্বজনদের সাহায্য–সহযোগিতা করা,

৫. তাঁদের ঋণ থাকলে পরিশোধ করা ও তাঁদের কাছে কারও গচ্ছিত আমানত থাকলে তা প্রত্যর্পণ করা,

৬. বৈধ অসিয়ত পূর্ণ করা ও

৭. কবর জিয়ারত করা।

পিতা–মাতার মৃত্যুর পর বা বার্ষিকীগুলোতে প্রচলিত নিয়মে খাওয়া মেজবানির আয়োজন না করে নগদ টাকা গরিব–মিসকিনকে দান করা অধিক উপকারী। পিতা–মাতার জন্য ফরজ ও নফল বদলি হজ ও ওমরাহ করা যায় এবং তাঁদের পক্ষে কোরবানিও করা যায়।

পিতা–মাতার সন্তুষ্টিই আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁদের অবাধ্যতাই আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ। তাই প্রতিটি সন্তানের উচিত, জীবিত অবস্থায় তাঁদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান, ভালোবাসা ও সেবা প্রদর্শন করা এবং মৃত্যুর পরও তাঁদের জন্য দোয়া ও সওয়াব পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। এভাবেই একজন সন্তান দুনিয়া ও আখেরাতে সফল হতে এবং জান্নাতের পথ সুগম করতে পারে।

আইএইচ/

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন