ইসলামে দোয়া হচ্ছে বান্দার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। আল্লাহর কাছে চাওয়ার অসংখ্য সময় ও অবস্থা রয়েছে। তবে এমন কিছু সময় আছে, যেগুলোতে দোয়া বিশেষভাবে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তেমনই একটি সময় হলো বুধবার দিনে যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়।
সহীহ হাদীসের একাধিক গ্রন্থে এসেছে, জাবির ইবনে আ’বদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদুল ফাতহে তিন দিন ধরে দোয়া করেছিলেন- সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার। কিন্তু বুধবার দিনের যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে তাঁর দোয়া কবুল হলো। তখন তাঁর চেহারায় আনন্দের উজ্জ্বলতা ফুটে উঠল।’
জাবির (রা.) আরও বলেন, ‘এরপর থেকে আমি যখনই কোনো কঠিন সমস্যায় পড়তাম, বুধবার দিনের ঐ সময়ে দোয়া করার জন্য বেছে নিতাম। আল্লাহর ফজলে আমি বুঝতে পারতাম, আমার দোয়া কবুল হয়েছে।’
এই হাদীসটি ইমাম বুখারী তাঁর আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আরও বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ও আল-বাযযার। মুহাদ্দিস আলবানী (রহ.) হাদীসটিকে হাসান বলেছেন (সহীহ আদাবুল মুফরাদ, হাদীস ৭০৪)।
শায়খ আলবানী (রহ.) ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, সাহাবি জাবির (রা.) স্বচক্ষে দেখেছেন যে, বুধবার দিনের ঐ সময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দোয়া কবুল হয়েছে। তাই তিনি নিজেও ঐ সময়ে নিয়মিত দোয়া করতেন এবং ফল পেতেন। এতে বোঝা যায়, এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং একটি সুন্নতি আমল।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘আমাদের অনেক আলেম এই হাদীসের প্রতি আমল করে বুধবার দিনে দোয়া করার চেষ্টা করতেন। তবে জাবির (রা.) কেবল সময়কে গুরুত্ব দিয়েছেন, কোনো নির্দিষ্ট স্থানকে নয়।’ (ইকতিদা সিরাতুল মুস্তাকীম, ১/৪৩৩)
ইমাম বায়হাকী (রহ.) বলেন, দোয়ার জন্য উপযুক্ত সময়, অবস্থা ও স্থান অনুসন্ধান করা উচিত। আর বুধবার দিনে যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময় দোয়া কবুলের অন্যতম সময়।’ (শু‘আবুল ঈমান, ২/৪৬)
এই হাদীস ও আলেমদের ব্যাখ্যা থেকে স্পষ্ট হয়, বুধবার দিনের যোহর ও আসরের মাঝের সময়টি দোয়ার জন্য বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য। তাই আমাদেরও উচিত এ সময়কে গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা, দুনিয়ার সমস্যার সমাধান ও আখিরাতের মুক্তির জন্য কান্নাকাটি করা এবং আল্লাহর কাছে চাওয়ার এই সোনালী মুহূর্ত হাতছাড়া না করা।
আইএইচ/

