Logo

ধর্ম

বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মুসলমানদের পক্ষে দাঁড়ানো ঈমানের দাবি : মুফতি আব্দুল মালেক

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৫২

বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মুসলমানদের পক্ষে দাঁড়ানো ঈমানের দাবি : মুফতি আব্দুল মালেক

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সম্মানিত খতিব মুফতি আব্দুল মালেক বলেছেন, আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্য হওয়ার পরও হজ আদায়ে বিলম্ব করা একটি গোনাহের কাজ। গতকাল শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর)  জুমার খুতবাপূর্ব বয়ানে তিনি এ কথা বলেন। বয়ানে তিনি বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মুসলমানদের, বিশেষ করে গাজার মজলুমদের পাশে দাঁড়ানোকে ঈমানের দাবি হিসেবে উল্লেখ করে মুসলিম শাসকদের জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

হজ ফরজ হওয়া প্রসঙ্গে খতিব বলেন, ‘বাইতুল্লাহ শরীফে পৌঁছানোর মতো হালাল সম্পদ থাকা এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই একজন মুসলমানের ওপর হজ ফরজ হয়ে যায়। এরপর প্রথম সুযোগেই হজ আদায় করা আবশ্যক। ‘মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়নি’ বা ‘হাতে নগদ টাকা নেই’- এ ধরনের অজুহাত দিয়ে হজ বিলম্ব করা শরিয়তসম্মত নয়। এটি আল্লাহর ডাকের প্রতি অবহেলা এবং গোনাহের কাজ।’ তিনি হজ নিবন্ধনের সময় ঘনিয়ে আসায় সামর্থ্যবানদের দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

বয়ানের দ্বিতীয় অংশে মুফতি আব্দুল মালেক বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের নির্যাতিত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর, হিন্দুস্তান, চীন এবং আরাকানে মুসলিমরা মজলুম। গাজায় আমাদের ভাইয়েরা অমানবিক অবরোধের শিকার। তাদের জন্য আমাদের হৃদয়ে যদি ব্যথা না জাগে, তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসার ফিকির যদি না থাকে, তবে আমাদের ঈমানের দাবি পূরণ হয় না।’

তিনি মুসলিম বিশ্বের শাসকদের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘মুসলিম শাসকেরা শুধু নিন্দা জানিয়েই দায়িত্ব শেষ করছেন। আপনারা নিন্দা জানাবেন, না নগদ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন? আপনাদের দুনিয়ার মহব্বত এমনভাবে পেয়ে বসেছে যে আপনারা আখেরাতকে ভুলে গেছেন এবং ঈমানি চেতনা হারিয়ে ফেলেছেন।’

গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক নৌবহরের (ফ্লোটিলা) সাফল্য কামনা করে তিনি মুসল্লিদের দোয়া করার আহ্বান জানান। খতিব বলেন, ‘কমপক্ষে দুই রাকাআত সালাতুল হাজত নামাজ পড়ে দোয়া করুন, যেন এই ত্রাণবহর নিরাপদে গাজায় পৌঁছাতে পারে এবং জালিম ইসরায়েলের অবরোধ ভেঙে মজলুমদের কাছে সাহায্য নিয়ে যেতে পারে। এটি হোক জালিমদের গালে একটি চপেটাঘাত।'

তিনি জাহেলি যুগে মজলুমকে সাহায্য করার জন্য গঠিত চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে স্বয়ং মহানবী (সা.) শরিক ছিলেন এবং নবুয়তের পরও এমন কোনো চুক্তির জন্য ডাকলে তিনি তাতে সাড়া দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। খতিব বলেন, ‘মজলুম যেই হোক, তার পক্ষে দাঁড়ানো এবং জালিমের হাত চেপে ধরা আমাদের দায়িত্ব।’

সবশেষে তিনি দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণের জন্য মুসল্লিদের নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।

আইএইচ/

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন