আজ ২৭শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। এ দিনটিকে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। ভ্রমণ মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইসলামে ভ্রমণ বিনোদন বা আনন্দের মাধ্যম হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সৃষ্টির মহিমা উপলব্ধির এক বিশাল ক্ষেত্র। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ভ্রমণ ও পৃথিবীতে ঘোরাফেরার প্রতি বিশেষ উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বহু স্থানে মানুষকে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াতে বলেছেন, যেন তারা অতীত জাতির ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং সৃষ্টির নিদর্শনগুলো চিনতে পারে। যেমন- ‘তবে কি তারা যমীনে ভ্ৰমণ করে দেখেনি তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছে? আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করেছেন। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে অনুরূপ পরিণাম।’ (সূরা মুহাম্মদ: ১০)
আরেক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘তারা কি উটের দিকে লক্ষ্য করে না- কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে? আর আকাশের দিকে- কীভাবে তা ঊর্ধ্বে স্থাপন করা হয়েছে? আর পাহাড়ের দিকে- কীভাবে তা স্থাপন করা হয়েছে? আর পৃথিবীর দিকে- কীভাবে তা বিছানো হয়েছে?’ (সূরা আল-গাশিয়াহ: ১৭-২০)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলছেন, ‘হে নবী! আপনি বলুন, তোমরা যমীনে পরিভ্রমণ কর। অতঃপর দেখ অপরাধীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছিল।’ (সূরা নামল : ৬৯)
এই আয়াতগুলো আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে, একজন মুসলিম ভ্রমণের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টির নিদর্শনগুলো নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ পায়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্য পথে বের হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।’ (সহিহ মুসলিম)
অর্থাৎ ভ্রমণ জ্ঞান, তাফাক্কুর (চিন্তা) ও আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার মাধ্যম।
সুতরাং, যেহেতু পবিত্র কোরআন ও হাদিসে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন পৃথিবী ভ্রমণ করতে, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে এবং তাঁর মহিমা উপলব্ধি করতে। তাই আমাদের প্রতিটি ভ্রমণ হোক শিক্ষণীয় এবং আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যম।
আইএইচ/

