Logo

ধর্ম

যে আমল করলে আপনার সকল দোয়া আল্লাহ কবুল করবেন

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৬

যে আমল করলে আপনার সকল দোয়া আল্লাহ কবুল করবেন

মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন ইবাদতবন্দেগী করার জন্য। বান্দার আমল যেমন তাঁর রবের সন্তুষ্টির কারণ হবে তেমনি জান্নাত লাভের পথ হবে সহজ। ইবাদতের মধ্যে ইস্তিগফার হচ্ছে একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। তওবা ও ইস্তিগফার আল্লাহর পছন্দের একটি ইবাদত। ইস্তিগফার পড়ার সময় একজন মুমিনের মনে হবে, আল্লাহ, আপনার ইবাদতের (নামাজের) হক আদায় হয়নি।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে, ‘তারপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাও। তিনি তো মহা ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তিনি তোমাদেরকে ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে সমৃদ্ধ করবেন, তোমাদের জন্য রাখবেন বাগান আর বইয়ে দেবেন নদীনালা। তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে চাচ্ছ না।’ (সুরা নুহ, আয়াত: ১০-১৩)

কোরআনে আরও বলা হয়েছে, আর আল্লাহ এমন নন যে, আপনি (রাসূল) তাদের মধ্যে থাকবেন অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং আল্লাহ এমনও নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন। (সুরা আনফাল, আয়াত: ৩৩)  

কোরআনের বহু আয়াতে আল্লাহ বান্দাকে ইস্তিগফার করার নির্দেশ দিয়েছেন। যারা সে নির্দেশ মেনে ইস্তিগফারের আমলের জন্য নিজেদের নিয়োগ করেছে, তারাই মুস্তাজাবুদ দাওয়ায় (যার দোয়া কবুল হয়) পরিণত হয়েছে। তারা আল্লাহর কাছে কোনো জিনিস চাইলে মহান আল্লাহ তা বান্দাকে দিয়ে দেন।

আল্লাহ বলেন, ‘তখন তুমি তোমার রবের প্রশংসা তসবি পাঠ করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী।’ (সুরা নসর, আয়াত: ৩)

আরও এরশাদ হচ্ছে ‘আর তুমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৬) 

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও। তারপর তার কাছে ফিরে যাও, (তাহলে) তিনি তোমাদেরকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উত্তম ভোগ-উপকরণ দেবেন এবং প্রত্যেক আনুগত্যশীলকে তার আনুগত্য মোতাবেক দান করবেন। আর যদি তারা ফিরে যায়, তবে আমি নিশ্চয়ই তোমাদের ওপর বড় একদিনের আজাবের ভয় করছি।’ (সুরা হুদ, আয়াত: ৩)

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর জীবনীতে ইস্তিগফার নিয়ে একটি ঘটনা পাওয়া যায় যে, একবার তিনি একটা শহরে যাচ্ছেন। পথে এশার নামাজের ওয়াক্ত হয়ে গেলে তিনি কাছের একটি মসজিদে ঢুকলেন। রাত হয়েছে, তাঁকে অনেক দূর যেতে হবে। তিনি চিন্তা করলেন ফজরের নামাজ পড়েই এ মসজিদ থেকে আবার যাত্রা শুরু করবেন। তিনি নামাজ পড়ে মসজিদে বসে থাকলেন। তাঁকে নামাজের পরও মসজিদে বসে থাকতে দেখে মসজিদের দ্বাররক্ষী এসে বললেন, রাতে মসজিদে থাকা যাবে না। আহমাদ ইবনে হাম্বল নিরুপায় হয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে পড়লেন।

মসজিদের বাইরেই ছিল একটা রুটির দোকান। আহমাদ ইবনে হাম্বল যুবক দোকানদারকে সালাম দিয়ে বললেন, ‘শীতের রাত। আমি কি তোমার কাছে আগুন পোহাতে পোহাতে রাতটা কাটিয়ে দিতে পারি?’

দোকানদার বললেন, ‘এখানে আগুন পোহাতে পোহাতে রাত কাটালে আমার কোনো সমস্যা নেই।’

আহমাদ ইবনে হাম্বল লক্ষ করলেন, যুবকটি রুটির খামির তৈরি করতে করতে বলছেন, ‘আসতাগফিরুল্লাহ’, বেলুন দিয়ে রুটি বানাতে বানাতে বলছেন, ‘আসতাগফিরুল্লাহ’, ক্রেতার হাতে রুটি তুলে দিতে দিতে বলছেন, ‘আসতাগফিরুল্লাহ’, টাকা নিতে গিয়েও বলছেন, ‘আসতাগফিরুল্লাহ’। অর্থাৎ সব কাজেই যুবকটি শুধু বলছেন, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’।

আহমাদ ইবনে হাম্বলের কৌতূহল বেড়ে গেল। বললেন, ‘যুবক! আমি আসার পর থেকেই দেখছি আপনি কিছুক্ষণ পরপর শুধু পড়ছেন ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’। কেন আপনি এত ইস্তিগফার করছেন?’

যুবক বলল, ‘আমি সব সময় ইস্তিগফার পড়ি। এই আমলের ফলে আল্লাহ আমাকে ‘মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ’ (দোয়া করলেই তা কবুল হয়ে যায়) বানিয়ে দিয়েছেন। যখনই আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি, আল্লাহ তা কবুল করে নিয়েছেন।

যুবকের কথা শুনে আহমাদ ইবনে হাম্বল একেবারেই অবাক। যুবকটি বললেন, ‘তবে আমার একটা দোয়া এখনো কবুল হয়নি। সেটি ছাড়া আল্লাহ আমার সব দোয়া কবুল করে নিয়েছেন।’ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের কৌতূহল আরও বেড়ে গেল। তিনি প্রশ্ন করলেন, আপনার যে দোয়াটটি এখনো কবুল হয়নি, সেটা কোনটা? এবার রুটিওয়ালা বললেন, ‘আল্লাহর কাছে আমি অনেকবার এই দোয়া করেছি যে আল্লাহ, শুনেছি এই সময়ের বড় মুহাদ্দিস ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল। আমি তাঁর দেখা যেন পাই।’

এবার আবেগে আহমাদ ইবনে হাম্বলের চোখে পানি চলে এল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বললেন, ‘আপনার কবুল না হওয়া দোয়াটাও আজ কবুল হলো। আপনার সামনে আমিই আহমাদ ইবনে হাম্বল। নিশ্চয় আপনার দোয়ার কারণে আল্লাহ আমাকে আপনার দোরগোড়ায় টেনে এনেছেন।’ (মানাকিব আল ইমাম আহমাদ)

আইএইচ/

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন