সারাদেশে চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। হিন্দু ধর্মালম্বীরা নিজেদের ধর্মের রীতি অনুযায়ী বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও হরেকরকমের খাবারের আয়োজন করে থাকেন। পূজার এই সময়টাতে অনেক মুসলমান হিন্দুদের এসব প্রসাদ-লাড্ডু খেয়ে থাকেন। সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই হয়ত তারা এসব খাবার গ্রহণ করেন। তবে এ ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী? শরিয়তে অমুসলিমদের দেওয়া প্রসাদ খাওয়া জায়েজ নয়। কারণ, মুর্তিপূজকরা বিশেষ এক প্রকার খাদ্য দিয়ে এগুলো বানায়। তাদের এ বিশেষ প্রসাদ দেওয়া-নেওয়ার ব্যাপারে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ করেছেন।
সূরাহ বাকারার ১৭৩ নং আয়াতে আছে- ‘তিনি তোমাদের উপর হারাম করেছেন, মৃত জীব, রক্ত, শুকর মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যাতীত অপর কারো নামে উৎসর্গ করা হয়। অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।’
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! মুমিনগণ ছাড়া কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি নিজেদের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য অভিযোগ কায়েম করতে চাও’ (আন-নিসা, ৪/১৪৪)।
তবে অমুসলিম প্রতিবেশিদের সাথে সামাজিক সুসম্পর্ক রাখাতে কোন সমস্যা নেই। তাদেরকে হাদিয়া দেওয়াও জায়েজ আছে।
তবে হাদিয়া না নেওয়াই উত্তম। তবে যদি নেওয়া হয়, তা খেতে কোন সমস্যা নেই। আর যদি উক্ত খাবার তাদের প্রতিমা ও মূর্তির নামে উৎসর্গকৃত খাবার হয় এবং তাতে কোন হারাম বস্তু মিশ্রিত থাকে, তাহলে তা খাওয়া জায়েজ হবে না। (আল-ইশবাহ ওয়াল-নাদাইর: ১/২২৩)
- জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া আল্লামা ইউসুফ বানুরি টাউনের ১৪৪২০৪২০০০৮৭ নম্বর ফতোয়া অবলম্বনে
আইএইচ/

