Logo

ধর্ম

পবিত্র কোরআন অবমাননাকারীর জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে যে কঠিন শাস্তি রয়েছে

Icon

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:১০

পবিত্র কোরআন অবমাননাকারীর জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে যে কঠিন শাস্তি রয়েছে

জাহেলি যুগে মানুষ যখন গোনাহ ও অপকর্মের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলো তখন আলোর দিশারী হয়ে মহানবী (সা.) এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। সুরা বুরুজে মহান আল্লাহ বলেন, ‘বরং এটা সম্মানিত কুরআন যা সংরক্ষিত ফলকে (লওহে মাহফুজ) লিপিবদ্ধ আছে।’ মক্কার হেরা গুহায় কোরআনের প্রথম আয়াত ‘ইকরা’ অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে সবার জন্য কোরআনের বিধান মানা অপরিহার্য। এর বাইরে অন্য কিছু অবলম্বন বা ভাবার কোনও সুযোগ নেই।

আর যারা কোরআনের অবমাননা করবে আল্লাহ তাআলা তাদের কঠিন শাস্তি দেবেন। বিশ্বের ২০০ কোটি এর অধিক মুসলমানের সঙ্গে পবিত্র এই গ্রন্থের আত্মার সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। কেউ যখন কোরআন অবমাননা করে, তখন সে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। যা ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত।

কোনো সভ্য মানুষ এমন জঘন্য অপকর্ম মেনে নিতে পারে না। তা ছাড়া পৃথিবীর সব ধর্মগ্রন্থই নিজ নিজ অনুসারীদের কাছে অতি মর্যাদা ও সম্মানের বস্তু। তাই ধর্মগ্রন্থ অবমাননা সব ধর্মে নিন্দনীয় কাজ। হাদিসে বলা হয়েছে, আর যারা কোরআন অস্বীকার করবে, তারা দুনিয়ায় লাঞ্ছিত এবং পরকালে জাহান্নামে পতিত হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৭৮২)

এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘দুর্ভোগ প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী মহাপাপীর, যে আল্লাহর আয়াতের আবৃত্তি শোনে অথচ ঔদ্ধত্যের সঙ্গে (নিজ মতবাদে) অটল থাকে। যেন সে তা শোনেইনি। সুতরাং ওকে মর্মন্তুদ শাস্তির সুসংবাদ দাও।’ (সুরা : জাসিয়া, আয়াত : ৭-৮)

আরও এরশাদ হচ্ছে, যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধে দুশমনিতে লিপ্ত হয় এবং পৃথিবীতে অশান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টির পাঁয়তারা করে, তাদের শাস্তি কেবল মৃত্যুদন্ড, শূলিবিদ্ধ করে হত্যা কিংবা হাত পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা অথবা নির্বাসিত করা (কারাগারে নিক্ষেপ করা)। এ তো হল তাদের পার্থিব অপমান। আর পরকালেও তাদের জন্য অপেক্ষা করছে মর্মন্তুদ শাস্তি। (সূরা মায়েদা ৩৩)

আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) তাঁর ছাত্রদের বলেন, ‘জেনে রাখো, কোরআন (অনুসারীর পক্ষে ও অবমাননাকারীদের বিপক্ষে) এমন সুপারিশকারী, যার সুপারিশ কবুল করা হবে। অতএব যে কোরআনের অনুসরণ করবে, সে জান্নাতে যাবে। আর যে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (ফাজায়েলে কোরআন, ইবনে কাসির : ১৫১ )

একজন মুসলিমের জন্য কোরআন অবমাননার মতো জঘন্য অপরাধ করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি কোরআন অবমাননা কিংবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে তাহলে সে ইসলামের গণ্ডির বাইরে চলে যাবে এবং তাকে ইসলামী শরিয়তের ভাষায় মুরতাদ বলা হবে। এ বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের মাঝে কোনো দ্বিমত নাই। 

ইসলামী আইন অনুযায়ী মুরতাদের শাস্তি হল মৃত্যুদন্ড। হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ্‌ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঐ মুসলিমের রক্ত হালাল নয়, যে এরূপ সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহ্‌র রাসূল। তবে তিনটি কারণে কোন মুসলিমের রক্ত প্রবাহিত করা হালাল- (১) যদি কোন বিবাহিত ব্যক্তি যিনা করে; (২) যদি কেউ কাউকে হত্যা করে, তবে এর বিনিময়ে হত্যা এবং (৩) যে ব্যক্তি দীন ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে মুসলিমের জামায়াত থেকে বেরিয়ে যায়। (সুনান আবূ দাউদ, হাদিস : ৪৩০১)

আইএইচ/ 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

আল কোরআন আল হাদিস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন