শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। আর সেই শিক্ষাকে সকলের কাছে পৌঁছে দেন যিনি তিনি হলেন শিক্ষক। ইসলামের দৃষ্টিতে শিক্ষকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক একটি পেশা। পৃথিবীতে যত মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন হয় এর সবই মূলত উত্তম শিক্ষার বদৌলতে হয়ে থাকে। একজন শিক্ষার্থী এসব গুণ তার শিক্ষক থেকেই পেয়ে থাকে।
শিক্ষকের মর্যাদা সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জ্ঞান অর্জন করো এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য আদব-শিষ্টাচার শেখো। এবং যার কাছ থেকে তোমরা জ্ঞান অর্জন করো, তাকে সম্মান করো।’ (আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস : ৬১৮৪)
ইসলামে নবী-রাসুলদের সম্মান সবার ওপর। আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন, নবীগণ মানবতার শিক্ষক। তারা মানুষকে আল্লাহ তায়ালার বিধান সম্পর্কে অবগত করেন, ভালো ও মানবতার বিষয়গুলোর শিক্ষা দান করেন। নবী-রাসুলদের পর মা-বাবাকে সব থেকে বেশি সম্মান দেওয়া হয়। বাবা-মায়ের মতো একজন শিক্ষককেও সম্মান দেওয়া উচিত।
বর্ণিত আছে, ইমাম আহমদ (রহ.) ইসলামী জ্ঞান, তাকওয়া ও খোদাভীতির দিক দিয়ে তার শিক্ষকের তুলনায় অনেক অগ্রগামী ছিলেন, এরপরেও তিনি কখনো তার শিক্ষকের সামনে বসতেন না, বরং বলতেন, আমাদের শিক্ষকের সামনাসামনি বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। (তাজকেরাতুস সামে ওয়াল মুতাকাল্লিম, ৭৮)
ইমাম শাফেয়ী (রহ.) ইমাম মালিক (রহ.)-এর অন্যতম শিষ্য ছিলেন। তিনি বলেন, আমি যখন ইমাম মালেক রহ.-এর সামনে কিতাবের পৃষ্ঠা উল্টাতাম, তখন অনেক ভদ্রতা ও বিনয়ের সাথে উল্টাতাম, খেয়াল রাখতাম যেন তিনি শব্দ পেয়ে কোনওভাবে বিরক্ত না হন। (হাওয়ালা সাবেক, ৮৮)
পবিত্র কোরআনেই হজরত মুসা আ. ও হজরত খিজির আ.-এর ঘটনা সবিস্তারে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত মুসা আ. একজন নবী হওয়ার পরও খিজির আ. এর সব কথা ও আদেশ ধৈর্যসহকারে শুনেছিলেন, এ ঘটনা আমাদের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।
শিক্ষকের মর্যাদার বিষয়ে ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি তার শিক্ষক হাম্মাদ (রহ.)-এর বাসার দিকে পা বিছিয়ে বসতেও চাইতেন না। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) তার শিক্ষক আবু হানিফা (রহ.)-কে এতোটা ভালোবাসতেন যে, তার সন্তান মারা যাওয়ার পরও তিনি শিক্ষকের ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন।
দুঃখজনকভাবে বর্তমান সময়ে ছাত্র শিক্ষকের মাঝে সেই ভালোবাসা-সৌহার্দ্য ও সম্মান অনেকটাই হারাতে বসেছে। শিক্ষার্থীরা নিজের শিক্ষকের সাথে এমন আচরণ করে যা দেখে মনে হয় শিক্ষক তার বিরোধী ও বিপক্ষের কেউ। ভদ্রতা, সৌজন্য ও সম্মান রক্ষা তো অনেক দূরের বিষয়।
একজন শিক্ষক বাবার মর্যাদাস্থলে থাকেন, তাই শিক্ষকের জন্যও উচিত তিনি নিজের সন্তানকে যেভাবে ভালোবাসেন তার শিক্ষার্থীকেও যেন সেভাবেই ভালোবাসেন। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. নিজের ছাত্রদের সম্পর্কে বলেছেন, তাদের চেহারায় একটি মাছি বসলেও আমি কষ্ট পাই। (তাজকিরাতুস সামে, ৯)
আইএইচ/

