ইসলাম সর্বোত্তম ও পূর্নাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইসলামের পথ প্রদর্শক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও মানবতার জন্য পূর্ণাঙ্গ ও সর্বোত্তম আদর্শ। মহান আল্লাহর ঘোষণা, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" [সূরা আহযাব - ২১]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝে একাধারে একজন আদর্শ যুবক,আদর্শ স্বামী,আদর্শ পিতা,আদর্শ দা'য়ী,আদর্শ সমাজ সংস্কারক,আদর্শ সেনাপতি,আদর্শ সংগঠক,আদর্শ রাষ্ট্রনায়কের বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি সন্নিবেশিত ছিল একজন আদর্শ শিক্ষকের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য। তিনি হচ্ছেন বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল মহামানব। যিনি বিশ্বের সবচেয়ে অধঃপতিত, পশ্চাৎপদ সমাজকে শিক্ষার আলোকোজ্জ্বল মশাল দ্বারা সর্বাধিক উন্নত-নৈতিকতাসম্পন্ন সমাজে পরিণত করার একমাত্র কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাই তিনি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন মুসলিমসহ বিশ্বের সমস্ত জাতি-গোষ্ঠীর উপর।
নবুয়তের পূর্ব পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মী তথা নিরক্ষর ছিলেন। পাশাপাশি কারো কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন না করলেও নবুয়তের পরবর্তী সময়ে মহান আল্লাহর পরম তত্ত্বাবধানে নিরক্ষর মোহাম্মদই হয়ে উঠেন একজন আদর্শ শিক্ষক। তাঁর শিক্ষক ছিলেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। আল্লাহ ঘোষণা করেন, "হে নবী,তিনি (আল্লাহ) আপনাকে ঐসব বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন,যা আপনি জানতেন না। আর আপনার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ সীমাহীন ও বিরাট।" (সূরা আন নিসা - ১১৩)
ইসলামের প্রাথমিক যুগে জ্ঞান চর্চা ও জ্ঞান বিতরণের জন্য কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। সে সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবাকেই শিক্ষায়তন হিসেবে ব্যবহার করতেন। কিন্তু কাফেরদের চক্রান্তের কারণে খুব বেশিদিন সেখানেও শিক্ষা কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়ে উঠেনি। পরবর্তীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরকাম বিন আবিল আরকামের বাড়িকেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বেছে নিয়েছিলেন। আর এটাই ছিল ইসলামের প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে তার স্রষ্টার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। পাশপাশি স্রষ্টা কর্তৃক অর্পিত দায়িত্বের কথা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়া। সর্বোপরি মানুষের অন্তরকে পবিত্র করা এবং বিশ্ব মানবতার কল্যাণ সাধন করা। কুরআনে এসেছে, "তিনি সেই মহান সত্তা,যিনি নিরক্ষর (লোকদের) মাঝে থেকে তাদেরই একজন কে রাসুল করে পাঠিয়েছেন,যে তাদেরকে আল্লাহর আয়াতসমূহ পড়ে শোনাবে,তাদের জীবনকে পবিত্র করবে,তাদেরকে (আসমানী) কিতাবের কথা ও (সে অনুযায়ী দুনিয়ায় চলার) কৌশল শিক্ষা দিবে। অথচ এই লোকগুলোই এর আগে এক সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল।" [ সূরা জুময়া - ২ ]
মানবতার মহান শিক্ষক মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা শিক্ষার্থীদের মেধা ও সার্বিক অবস্থার বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিতেন। রাসুলের শিক্ষার্থী সাহাবীগণ ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানপিপাসু। তারা তাদের অজ্ঞতাকে দূর করতে এবং জ্ঞান পিপাশাকে পরিতৃপ্ত করতে রাসূল সাল্লাহু সাল্লামকে সর্বদা প্রশ্ন করতেন। কেননা, "অজ্ঞতার চিকিৎসা হল জিজ্ঞাসা।" [ আবু দাউদ - ৩৩৬]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামও অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সাবলীল ভাষায় তাদের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দানের মাধ্যমে তাদের জ্ঞান পিপাসাকে পরিতৃপ্ত করতেন। হাতে-কলমে যে শিক্ষা দেওয়া হয় তা স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী হয়। সেজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন সময়ে সাহাবীদেরকে হাতে-কলমে অর্থাৎ প্র্যাকটিক্যালভাবে শিক্ষা দিতেন। এমনকি তিনি খাওয়ার আদব সহ যাবতীয় ইবাদত হাতে-কলমে শিক্ষা দিতেন।
লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
আইএইচ/

