Logo

ধর্ম

জুলুম-অবিচার: ভয়াবহ অন্যায়

Icon

মীযান মুহাম্মদ হাসান

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:১৫

জুলুম-অবিচার: ভয়াবহ অন্যায়

জুলুম এটি আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো, নির্যাতন, নিপীড়ন, অবিচার, অন্যায় আচরণ ইত্যাদি। একইভাবে জোরপূর্বক কারও হক-অধিকার নষ্ট করাও জুলুমের অন্তর্ভুক্ত। দায়িত্ব বা কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়, এমন কাজ করতে চাপ প্রয়োগ করা। কিংবা অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক কোনো কাজ করানোর জন্য চাপাচাপি করাও এক ধরনের জুলুম তথা অবিচার। এ জাতীয় কাজ কখনো ন্যায়সঙ্গত নয়!

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “কারও ওপর সাধ্যের বাইরে আল্লাহ তায়ালা কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না।” -সুরা বাকারা : ২৮৬ 

এজন্য সাধ্যের মধ্যে নয় বা দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত নয়; এমন কোনো কাজ কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় ও পরিস্কার জুলুম। এমনকি দায়িত্ব বা কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়, এমন কোনো কাজ কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক ধরনের সীমালঙ্ঘনেরও অন্তর্ভুক্ত।

মনে করুন, একজন কর্মচারীর জন্য তার ডিউটি বা কর্মঘণ্টা হচ্ছে ফিক্সড আট ঘণ্টা। এর বাইরে যে পরিশ্রম তিনি করবেন। এজন্য তিনি চুক্তিবদ্ধ নন! বরং অতিরিক্ত কাজের জন্য ওভারটাইম হিসাবে বাড়তি পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার তার রয়েছে। শ্রম আইনেও তার এ অধিকার রয়েছে। এখানে দায়িত্বের বেশি তাকে দিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে পরিশ্রম করানোর অর্থ হচ্ছে, তার ওপর জুলুম অবিচার করা। এটি অন্যায় আচরণ। এমনটি কখনো কারো থেকেই কাম্য নয়! 

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা (কারও ওপর) জুলুম -অবিচার করো না। তোমাদের ওপরও জুলুম অবিচার করা হবে না।” (সুরা বাকারা : ২৭৯)

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, মাজলুমের আর্তনাদ থেকে বেঁচে থাকো। মজলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কারণ তার ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।” (সহিহ বুখারি)

অর্থাৎ, একজন মাজলুম তথা নিপীড়িত ব্যক্তি যখন অপারগ হয়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে। তার ওপর করা জুলুম অবিচারের জন্য হাহাকার করে। তখন তার ফরিয়াদ কবুল করা হয়।

এমনিভাবে পাওনা অধিকার বা হক আদায়ে গড়িমসি করাও স্পষ্ট জুলুম ও অন্যায়। একইভাবে কারও বিষয়ে ন্যায় ও সঠিক বিচার না করা। অর্থের বিনিময়ে সত্যকথা না বলা। সত্যের পক্ষে রায় না দিয়ে মিথ্যা ফায়সালা করা। আবার একজনের পাওনা আরেকজনকে দিয়ে দেওয়া। এ জাতীয় কাজ নিঃসন্দেহে জুলুম এবং অন্যায়। এগুলোকে হুকুকুল ইবাদ বা বান্দার অধিকারসমূহ বলে। এমন হক বা অধিকার যদি কেউ লঙ্ঘন করে, তবে এর জন্য যার হক বা পাওনা অধিকার নষ্ট করা হচ্ছে ; তার থেকে ক্ষমা চাইতে হবে। নয়ত আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করবেন না। কারণ আল্লাহ তায়ালা বান্দার প্রতি জুলুম অবিচারকারী নন। -সুরা আলে ইমরান : ১৮২

সহি বুখারির বর্ণনায় এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ এখানে এ হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রত্যেক মানুষই তার কাজের বিষয়ে দায়িত্ববান। অর্থাৎ, যাকে যে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার জন্য জরুরি হলো, সে ঐ কাজটি সম্পন্ন করবে। যতক্ষণ না তা অসাধ্য ও অসম্ভব এবং খুব বেশি কষ্টকর হয়। এজন্যই কোনো দায়িত্ব নেওয়ার সময়, বুঝে শুনে তা গ্রহণ করতে হবে। দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তাতে অবহেলা ও অনীহা পোষণ করাও অন্যায় এবং খেয়ানতের অন্তর্ভুক্ত। তাই শুধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি দোষারোপ করাও সঠিক ও সমীচীন নয়! যা  অনেক সময় অনেকেই করে থাকেন। 

মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন একজন শাসকের মতন। হাদিসের ভাষায় ইমামুন আদিলুন- যার কাছ থেকে তার অধীনস্থগণ ন্যায় ও ইনসাফ কামনা করেন। হাদিসে এসেছে, হাশরের দিন, যখন কেউ কোনো আশ্রয়-ছায়া পাবে না, তখন একজন ইনসাফকারী শাসক ব্যক্তি আল্লাহর আরশের নিচে ছায়া পাবেন। (সহিহ বুখারি)

আমাদের প্রত্যেক দায়িত্বশীলদের জন্য আবশ্যক হলো, আমরা আমাদের অধীনস্থদেরকে সাধ্যের বাইরে আদেশ করব না। জোরপূর্বক কোনো কাজ চাপিয়ে দেব না। এভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করে অধীনস্থের প্রতিও অবিচার করা থেকে বিরত থাকব। মাজলুমের বদদোয়া থেকে বেচে থাকার চেষ্টা করবো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে যাবতীয় অন্যায় অবিচার ও জুলুম নির্যাতন নিপীড়ন থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।

লেখক : খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর

বিকেপি /এমএম

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর